পোড়া গাড়ি, দগ্ধ মানুষ ও কফিন নিয়ে মানববন্ধন

রাজধানীতে পোড়া গাড়ি, দগ্ধ মানুষ আর কফিন নিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতালে গাড়ি জ্বালাও-পোড়াও এবং পরিবহন শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে আনা প্রতীকী দুই কফিনের গায়ে লেখা ছিল– ‘আমার কী অপরাধ, আমাকে পুড়িয়ে মারল কেন?  পেট্রোলবোমা  হামলায় দগ্ধ  শ্রমিকদের প্রতীক হিসেবে সারা গায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ভ্যানগাড়িতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন দুজন পরিবহন শ্রমিক। ব্যানারে ছিল শ্রমিকদের আকুতি, ‘আমি হরতাল-অবরোধককারীদের পেট্রোলবোমার শিকার।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে রাখা হয় তিনটি পোড়া বাস। ওগুলো জানান দিচ্ছিল, ‘আমরাও হরতাল-অবরোধের নৃশংসতার শিকার হয়ে অঙ্গার হয়ে অকেজো।’ এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়  কয়েকশ’ পরিবহন শ্রমিক। কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ পল্টন থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মফিজুল হক বেবু, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সম্পাদক রুস্তম আলী খান, সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য মোখলেছুর রহমান, তাজুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী শোভা, আবদুল ওয়াদুদ নয়ন প্রমুখ।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। এদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে  কয়েকশ’ বাস-ট্রাকসহ অন্য যানবাহন। পুড়িয়ে মারা হচ্ছে যাত্রীদের। গত বছর ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও পরিবহন শ্রমিকরা সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। পরিবহন খাতকে হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে পরিবহন খাতে নাশকতা বন্ধ না হলে শ্রমিকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন ও সংবাদ সম্মেলন ডেকে  কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা এ সহিংসতা থেকে পরিত্রাণ চাই। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ আমাদের বিভিন্ন পরিবহনের সংখ্যা ৩ লাখ। সহিংসতার মধ্যেও দেশজুড়ে আন্তঃজেলা পর্যায়ে ৮০ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান নিয়মিত চলাচল করছে। তবে যাত্রী স্বল্পতার কারণে কয়েকটি জেলায় বাস চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি  ক্ষতিগ্রস্ত  পরিবহন মালিকদের ব্যাংক সুদ মওকুফ,  শ্রমিকদের ক্ষতিপ?ূরণেরও  দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ  সড়ক পরিবহন সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মফিজুল হক বেবু, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সম্পাদক রুস্তম আলী খান, সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য মোখলেছুর রহমান, তাজুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী শোভা, আবদুল ওয়াদুদ নয়ন প্রমুখ।