সোমবারের এসএসসি-সমমান পরীক্ষা শুক্রবার

হরতাল ঝুঁকিতে পরীক্ষা দিতে হবে না শিক্ষার্থীদের। তবে চলমান অবরোধের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের অরবোধের মধ্যেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা হরতালের কারণে ২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারির করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। ওই দিন অবরোধ রয়েছে।
পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। 
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব অবহেলা করতে পারি না। ছেলেমেয়েদের অমানবিক কর্মকান্ডে হিংস্রতার মুখে ঠেলে দিতে পারি না, যেখানে বোমা দিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা-জীবন আমাদের কাছে বড়।
আজ এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র, দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং কারিগরিতে বাংলা-২ পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষাগুলো এখন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ জন ছাত্রী।
হরতালের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে না হলেও অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে। অবরোধে সহিংসতা কম হলেও নিজ সন্তানকে নিয়ে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হতে পারেনি অভিভাবকরা। অভিভাবকরা চায়, পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিবেশে তার সন্তান পরীক্ষা দেবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। অবরোধের দিন কিছু হয় না তাই হরতাল দিয়েছে, তারাই ধরে নিয়েছেন অবরোধ কোনো কিছু হয় না। তাই হরতালে পরীক্ষা বন্ধ রাখা হবে। আশা করছি পরীক্ষার দিনগুলোতে হরতাল হবে না, যাতে ছেলে মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন এবং নিরাপত্তার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি হরতালের দিন পরীক্ষা পরিবর্তন করে দিয়েছি। অন্যান্য পরীক্ষার দিন হরতাল না থাকায় যথা সময়ে শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, বিএনপি আর হরতাল দিয়ে পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত করবে না।
‘আমরা অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বারবার আবেদন করে আসছি। আশা করছিলাম, ভবিষত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে তাদের (বিএনপি জোট) কাছে মানবিক সাড়া পাবো। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। দেশবাসী সাড়া দিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে, খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে।’
‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্ত তাদেরও তো সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে’ বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এক মাস ক্লাস না হওয়া, পরীক্ষা দিতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়বে শিক্ষার্থীরা, এর প্রভাবে আগামী ৩০ বছর সাফার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।