আগের ইনিংসেই পেয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। সেই ২২৭ রানের ইনিংস খেলার পর রবিবারও রনির ব্যাট থেকে আসলো ১৬৩ রান। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ২৭ রান দূরে আছেন ঢাকা বিভাগের আরেক ওপেনার আব্দুল মজিদ। তাতে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ঢাকা বিভাগ প্রথম দিন শেষে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে করে ফেলেছে ৩৬০ রান।
কিন্তু, এই দুই ব্যাটিং তাণ্ডবকে ছাপিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ১৬ তম আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে নায়ক হয়ে উঠলেন অন্য আরেকজন। তিনি হলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাঁ-হাতি এই অফস্পিনার বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে ১০০ রান দিয়ে একাই নিয়েছেন আট উইকেট।
আর অধিনায়কের এমন অভাবনীয় স্পিন ঘূর্ণীতে ৬২ ওভার তিন বলে অল আউট হওয়ার আগে বিকেএসপির দুই নম্বর মাঠে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৭১ রান করে বরিশাল বিভাগ। সর্বোচ্চ ৮৫ রান আসে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নামা ফজলে রাব্বির ব্যাট থেকে। এছাড়াও খুলনার ইনিংসে আছে আরও দুটি হাফ সেঞ্চুরি। যথাক্রমে ৬৪ ও ৫৫ রান আসে আল আমিন-২ ও শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাট থেকে।
জবাবে, দিনে ৩২ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় খুলনা বিভাগ। তাতে দুই উইকেট হারিয়ে দলটি করেছে ৭৩ রান। পিছিয়ে আছে ১৯৮ রানে। দুই ওপেনার অমিত মজুমদার ও রবিউল ইসলাম রবি যথাক্রমে ৩০ ও ২৬ রান করেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আব্দুর রাজ্জাকের এমন পারফরম্যান্স অবশ্য নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগে আরও ১৬ বার প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে পাঁচ বা তার বেশি সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গত ম্যাচের শেষ ইনিংসেই ৭১ রান দিয়ে নিয়েছেন সাত উইকেট। এর বাদে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগারের মালিকও তিনি।
২০১২ সালে এই জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ৮৪ রান দিয়ে নিয়েছিলেন নয়টি উইকেট। এর আগ পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের মালিক ছিলেন আরেক বাঁ-হাতি অফস্পিনার মোশাররফ হোসেন রুবেল। ২০০৪-০৫ মৌসুমে ১০৫ রান দিয়ে নয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে ভাল অবস্থানে নেই চট্টগ্রাম বিভাগ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২০৯ রানেই অল আউট হয়ে যায় দলটি। সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন ইরফান সুক্কুর।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ধসটা নামান মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজা। ৪৫ রান দিয়ে একাই পাঁচ উইকেট নেন তিনি। এর বাদে সাকলায়েন সজীব তিনটি ও শফিউল ইসলাম দুটি উইকেট নেন।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুন সূচনা করেছে রংপুর বিভাগ। সিলেট বিভাগের দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ছয় উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান করে দলটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে তানভির হায়দারের ব্যাট থেকে। এছাড়া মাহমুদুল হাসান ৬০ ও ওপেনার লিটন কুমার ৪৯ রান করেন। সিলেটের হয়ে এনামুল হক চারটি ও রাহাতুল ফেরদৌস দুটি করে উইকেট নেন।