ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নিলখোলা নামকস্থানে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি মালবাহী ট্রাকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক নুর হোসেন (৩৫) ও হেলপার জাফর রাঢ়ী (২৫) নিহত হয়েছেন। নিহত ট্রাক চালকের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল রবের পুত্র। এবং হেলপারের বাড়ি একই জেলার দশমিনা উপজেলার বহরমপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের শাহজাহান রাঢীর পুত্র।
এ ঘটনাকে গৌরনদী থানা পুলিশ, হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তারা ট্রাকের ব্যাটারির শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আখ্যায়িত করছেন।
তবে স্থানীয়দের ধারণা, মধ্যরাতে চলন্ত ট্রাকে পিকেটাররা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করায় ট্রাকে আগুন লাগে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পরে যায়। এ সময় ট্রাকের হেলপার ও ড্রাইভারের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকের সামনের অংশ পুড়ে যায়। এ সময় ড্রাইভার নুর হোসেন ও হেলপার জাফর রাঢ়ী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে ছুটে আসে। পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয়দের সহয়তায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। গতকাল সকালে নিহতদের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের অদূরে মহাসড়কের ওপর কাঁচের বোতলের ভাঙ্গা অংশ ও পোড়া কাপর সদৃশ বস্তু দেখা গেছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে দুস্কৃতিকারীরা ট্রাকটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করায় তাতে আগুন লাগে। ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়ীটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। পাশেই টরকি ক্যাম্প পুলিশের একটি দল টহল দিচ্ছিল।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. আইনুল হক জানান, ব্যাটারির চ্যানেল থেকে শর্টসার্কিট হয়ে ট্রাকে আগুন লাগে।
সকালে বরিশালের পুলিশের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ, গৌরনদী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।