পাল্টে গেছেন কোহলি

 
 
বিরাহ কোহলি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম গত কিছু দিন থেকেই। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত ফর্মকে বাদ দিয়ে ভারতীয় টেস্ট অধিনায়কের কাছে বড় হয়ে উঠছে দলের প্রয়োজনটাই। গত কিছুদিনে কোহলির ব্যাটিং বলছে তেমনটাই।
 
শচীন টেন্ডুলকারের অবসরের পর দলের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসায় পরিণত হওয়া কোহলি সবচেয়ে সফল তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করে। তাছাড়া, দলের সেরা ব্যাটসম্যান ওয়ান ডাউন পজিশনে ব্যাট করবেন, এটা ক্রিকেটের অনেকটা অলিখিত রেওয়াজেই পরিণত হয়েছে। অথচ, দলের প্রয়োজনে দলের সেরা ব্যাটসম্যানটিকেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে সেই জায়গাটা।
সামপ্রতিক সময়ে বারবারই ভঙ্গুরতার পরিচয় দেয়া ব্যাটিং লাইনআপে শক্তি বাড়াতে কোহলিকে হয়তো বিশ্বকাপে দেখা যাবে মিডল অর্ডারে কিংবা চার নম্বরে খেলতে। শুরুতেই যদি কোহলি ফিরে যান তাহলে সেই চাপ সামাল দেয়ার কেউ থাকবেন না; এমনটা চিন্তা করেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত। ভারতীয় দল সংশ্লিষ্ট একজন না প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘সে সবসময়ই চায় তিন নম্বরে ব্যাট করতে। কিন্তু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্ম মোটেই ভাল যাচ্ছে না এবং এটাই তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। সে (কোহলি) যদি তিন নম্বরে নেমে আউট হয়ে যায় তাহলে দলের কি বিপত্তি হতে পারে ; সেটা নিয়ে ভাবছে সে। যদি সুরেশ রাইনা তার স্বাভাবিক ফর্ম ফিরে পান এবং ভাল কিছুর নিশ্চয়তা দিতে পারেন, তাহলে সে হয়তো উপরের দিকে উঠে আসবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই মাসে শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজের দিকে নজর দিলেই সত্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে মিডল অর্ডারের ভঙ্গুর অবস্থার। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজেও একই ফল দেখায় তারা। কোহলির কোচ এবং ক্রিকেট গুরু রাজকুমার শর্মাও জানালেন কেবল দলের কথা চিন্তা করেই ‘ব্যাটসম্যান কোহলি’র জন্য ঝুঁকি নিচ্ছেন কোহলি। ২১ টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির মালিক কোহলিকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন সিনিয়র ব্যাটসম্যানের কাজটা এমনই। সে সবসময়ই চায় অন্য ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করতে। সে ম্যাচ জয়ের জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করতে চায়। যদি দল মনে করে তার ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন দলের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে তাহলে সেটা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত কোহলি।’
গত বিশ্বকাপে একেবারেই তরুন কোহলি সময়ের আবর্তে এখন দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার। এই দায়িত্ববোধই কোহলিকে অনেক পাল্টে দিয়েছে জানিয়ে রাজকুমার বলেন, ‘তার কাছে যখন কেউ পরামর্শের জন্য আসে তখন তার (কোহলির) আচরণটা হয় সিনিয়র এক সদস্যের মতো। ২০১১ সালে গত বিশ্বকাপের সঙ্গে এই বিশ্বকাপের তফাতটা এখানে। গতবার সে ছিল অনেকটা শিশুর মতো কিন্তু এখন সে অনেক পরিণত।’

অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে এক বছর আগে থেকে বাড়তি প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কোহলির গুরু। টেস্ট সিরিজের শুরু থেকেই মিচেল জনসনকে আক্রমনাত্মকভাবে মোকাবেলা করাটাও কৌশলের অংশ ছিল বলে জানান তিনি। বিশ্বকাপেও অন্য সদস্যদের চাপমুক্ত রাখতে এমন রূপে কোহলি দেখা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে