সরকার বিরোধী আন্দোলন তীব্র করার লক্ষ্যে এগুচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। ইতিমধ্যে এক মাস ‘অবরোধ’ চালিয়েছে তারা। এই এক মাসে আন্দোলনের প্রভাব রাজধানী ঢাকাকে খুব একটা স্পর্শ করতে পারেনি। তবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘অবরোধ’ মোটামুটি চলছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সংলাপের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি না মানা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে প্রত্যয়ী। প্রথম দিকে এই লাগাতার অবরোধের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিদিন ১০-১২টি করে জেলায় হরতাল দিয়ে আসছিল ২০ দল। কখনো বা একেকটি বিভাগে দেয়া হচ্ছিল হরতাল। সেই হরতাল এখন দেশজুড়ে লাগাতার দেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহব্যাপী হরতাল শেষে শুক্রবার বিরতি দিয়ে আগামী সপ্তাহজুড়েও হরতালের পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। এছাড়া শুক্রবারকে হরতালের আওতামুক্ত না রাখাও হতে পারে। দলের একজন প্রভাবশালী নেতা উল্লেখিত তথ্য জানিয়ে বলেছেন, লাগাতার হরতাল ঘোষণা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।
বিএনপি নেতাদের কয়েকজন বলেছেন, তাদের কাছে যে তথ্য আছে তা হলো-ধীরে ধীরে রাজধানীতে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
ইতিমধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও ক্যাবল লাইন অবিলম্বে পুনঃস্থাপন না করা হলে অবরোধের সাথে অবিরাম হরতাল দেয়া হবে।
‘গণআন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত প্রায়’
এদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার, ভোটের অধিকার সরকারের পতনের লক্ষ্যে চলমান গণআন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত প্রায়।’
বেগম জিয়ার সঙ্গে থাকা সদ্য প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে মালয়েশিয়া ফিরে গেছেন। ওই কার্যালয়ে এখন আছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মারুফ কামাল খানসহ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া ইন্টারনেট, টিএন্ডটি টেলিফোন, ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক গতকালও চালু হয়নি।
প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কল্যাণ
পার্টির চেয়ারম্যানকে
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মুহাম্মদ ইবরাহিম গুলশান কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে বাধা দেয়। প্রায় ১৫ মিনিট পুলিশ বেষ্টনিতে থাকার পর খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করা ছাড়াই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
দায়িত্বরত পুলিশ জানায়, চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রবেশে অনুমতি নেই বিষয়টি কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ফিরে যান।
খালেদার অফিসের সামনে থেকে একটি লাইসেন্স করা অস্ত্র উদ্ধার
গতকাল সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বসভবনের সামনে পুলিশ মুফিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি লাইসেন্স করা অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে বেগম জিয়ার কার্যালয়ের সামনে উদভ্রান্তের মতো পায়চারি করতে থাকেন লোকটি। তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল। ঘটনা দেখে এগিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় ব্যাগ থেকে একটি অস্ত্র বের করে সে বলতে থাকে, “খালেদা জিয়া কোথায়? হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে নাই কেন, তাকে গুলি করে মারব।” পরে পুলিশ তাকে কার্যালয়ের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।