নওশাদ হোসেন। বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুরে। ২০০৩ সাল থেকে বসবাস করছেন ফেনী শহরে। পেশায় রাজমিস্ত্রী। ভাড়া বাসায় থাকেন। সঙ্গে থাকেন স্ত্রী আলেয়া বেগম। আছে দুই ছেলে আর দুই মেয়েও। ৬ জনের সংসার ভালোই চলছিল। অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিল না। তবে সুখের সেই সংসার তছনছ হয়ে গেছে অবরোধের আগুনে।
২৮ জানুয়ারি বুধবার অবরোধকারীদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমায় নওশাদের মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। চিকিত্সাধীন আছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। ঠিকমত কথাও বলতে পারছেন না তিনি।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আগুনে তার হাত, পা ও মুখের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে চোখ। গাড়িতে আগুন দিলে যাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে বের হতে পারেন না। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সময় আগুনের ধোঁয়া ভেতরে ঢুকে শ্বাসনালি পুড়ে যায়। এতে শরীরের কম অংশ পুড়লেও জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
হাসপাতালে নওশাদের সঙ্গে আছেন স্ত্রী আলেয়া। তিনি বলেন, ফেনী শহরের বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবরোধকারীরা বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারলে দগ্ধ হন নওশাদ। রাজমিস্ত্রী নওশাদ কাজ শেষে বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তার। বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের হাত খরচের টাকাও তখন নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নওশাদ এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। এ অবস্থায় তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নওশাদ ক্ষোভের সঙ্গে এই প্রতিবেদককে বলেন, দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ দিয়ে রাখলে আমাদের মত গরীব মানুষরা কিভাবে খাবে? পেটের দায়ে কাজ করতে ঘর থেকে বাইরে বের হই। একদিন কাজ না করলে পরিবারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়। যদি অবরোধের অজুহাতে কাজে না যাই তবে পরিবার চালাব কিভাবে? তিনি বলেন, চার ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়ালেখা করে। রাজনীতিবিদরা তো হরতাল-অবরোধ ডেকেই শেষ। তারা তো আর আমার সংসারের খরচ দিবে না।
কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল নওশাদের। একটু দম নিয়ে আবার বলেন, আমরা রাজনীতি করি না, কোন দলের মিটিং-মিছিলেও যাই না, এটাই কি আমাদের দোষ? কেন আগুনে পুড়ছি আমরা?