মেলার বিন্যাসে নতুনত্ব এসেছে, পাঠকরা মেলায় এসে স্বাচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব এবার মেলার উল্লেখযোগ্য দিক। কিন্তু মেলায় পাঠকের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্রকাশনী সংস্থাগুলোর প্যাভিলিয়ন। তবে প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্যাভিলিয়ন হয়েছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের প্যাভিলিয়নটি। বইয়ের র্যাকে বই যেভাবে রাখা হয় সেভাবে প্যাভিলিয়নটি নির্মাণ করা হয়েছে। খুবই নান্দনিক একটি প্যাভিলিয়ন হয়েছে এটি। এ প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যেমন ভিড় আছে, তার প্রায় দ্বিগুণ ভিড় স্টলের চারপাশ ঘিরে। চোখের সামনে এত্ত এত্ত বড় বই দেখে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে কেউ ভুলছেন না। এই প্যাভিলিয়নটিকে ঘিরে সেলফি ক্রেজিদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি।
এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বললেন, আমরা সবসময় বইয়ের স্টলটিকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে চাই। এবার সে সুযোগটি আরো ভালভাবে কাজে লাগানো গেছে। পাঠকের প্যাভিলিয়নের সজ্জা দেখে নিশ্চয়ই বই পাঠেও আগ্রহ সৃষ্টি করবে, আশা প্রকাশ করলেন তিনি।
অন্যপ্রকাশের স্টল সবসময়ই হুমায়ূন আহমেদকে অবলম্বন করে হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হুমায়ূন আহমেদকে অবলম্বন করে নান্দনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে এই প্যাভিলিয়নটি। স্থপতি-লেখক শাকুর মজিদের পরিকল্পনায় স্টলটির নকশা করেছেন এম ইব্রাহীম শেখ।
গ্রামবাংলার চৌচালা ঘর আর প্রকাশনা সংস্থাটির লোগোকে উপজীব্য করে প্যাভিলিয়নটির নকশা করেছেন শিল্পী অশোক কর্মকার। তিনি বলেন, ‘গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্যাভিলিয়নটির নকশা করেছি। এতে করে শহুরে মানুষেরাও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দেখতে পাবে।’
প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এবার বাংলা একাডেমির পাশাপাশি আরও ১০টি প্রকাশনা সংস্থাকে প্যাভিলিয়ন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো– ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), আগামী প্রকাশনী, অনন্যা প্রকাশনী, অনুপম প্রকাশনী, সময় প্রকাশন, কাকলী প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, সাহিত্য প্রকাশ ও পাঠক সমাবেশ। এর মধ্যে অনন্যা প্রকাশনী, অনুপম প্রকাশনী, সময় প্রকাশন, মাওলা ব্রাদার্স সাধারণ আর দশটা স্টলের মতো করেই সাজিয়েছে নিজেদের প্যাভিলিয়ন।
একুশে বইমেলার প্রশংসা সবসময় শুনেছি :শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
গতকাল মেলায় এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের স্বনামধন্য সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বললেন, এ মেলার প্রশংসা সবসময় শুনেছি। এবার দেখলাম, বই পাগল মানুষদের অন্যরকম ভিড়। এটা ভালো লাগছে। বই নিয়ে উন্মাদনা দেখলে আমাদের মত লেখকদের খুবই ভালো লাগে — সরল মন্তব্য লেখকের।
মোড়ক উন্মোচন
একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলার তৃতীয় দিনে নজরুল মঞ্চে ৫টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুলের ‘নদীর নাম ময়ূরাক্ষী’ ও ‘স্কুল ট্রিপে নাসা অভিযান’ বই দুইটির মোড়ক উন্মোচন করেন যথাক্রমে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক ও সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। নাফিসা মালিয়াত এশামনির বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আনিসুল হক।
নতুন বই
একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলার তৃতীয় দিনে ১০১টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে উপন্যাস ২৬, গল্প ১১, প্রবন্ধ ৪, কবিতা ২৭, ছড়া ১, শিশু সাহিত্য ৪, জীবনী ৩, মুক্তিযুদ্ধ ৪, বিজ্ঞান ৪, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ২, অভিধান ২, চিকিত্সা ১, রচনাবলী ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
মেলামঞ্চের আয়োজন
গতকাল মঙ্গলবার গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ষাট বছরে বাংলা একাডেমি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, ভুঁইয়া ইকবাল, ড. করুণাময় গোস্বামী এবং ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
সন্ধায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় সামিনা লুত্ফা নিত্রা রচিত এবং মোহাম্মদ আলী হায়দার নির্দেশিত বটতলা-এর নাটক ‘খনা’।
আজকের আয়োজন
আজ বুধবার মেলার মূলে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশে ছড়া সাহিত্য’ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়ুয়া। রফিকুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন রফিকুর রশিদ, রাশেদ রউফ ও আলম তালুকদার।