জাতিসংঘ দূতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ মিয়ানমারের

 
 
 
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গত মাসে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লির সফরের কথা উল্লেখ করে এ অভিযোগটি করেছে। মিয়ানমার সফরে গিয়ে লি দেশটিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বৈষম্য নিয়ে কথাবার্তা বলেছিলেন। খবর বিবিসির।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—লির উত্থাপিত বেশ কিছু উদ্বেগ ‘একটি বিষয়ের সামগ্রিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে’ প্রতিফলিত করে না। বিবৃতিতে লিকে ‘পেশাদারী এবং সতর্ক পদ্ধতিতে’ তার কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমার সফরে গিয়ে লি রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়ে মন্তব্য করায় সেখানকার উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তার সফরের পর দেশটির একজন সুপরিচিত জাতীয়তাবাদী ভিক্ষু তাকে ‘দুশ্চরিত্রা’ এবং ‘বেশ্যা’ বলে বর্ণনা করেন। এরপর ওই ভিক্ষুকে তিরস্কারের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জিয়েদ রাদ আল-হুসেইন।
২০১২ সালে রোহিঙ্গা সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বেশ কয়েক বার সেখানে মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা হয়। জাতিসংঘ বলছে—রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে গত মাসে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে জাতিসংঘ।