সংকট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে: সিইসি

 
 
 
 
'দেশের চলমান রাজনৈতিক সংঙ্কট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু করণীয় নেই' মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন সিইসি।
কাজী রকিবউদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেশের মাথাও নয়, অঙ্গও নয়, রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এখানে ইসির করণীয় কিছু নেই। ইসির দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বিষয়ে সংবিধানে বলা আছে।’
চলমান সংকট ও ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের জন্য ইসিকে অনেকে দায়ী করছেন। এতে সিইসি হিসেবে আপনি কি মনে করেন আপনারা দায়ী? এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সবার নিজস্ব মতামত আছে। মন্তব্য সবাই নিজের মতো করে দিতে পারেন। এটা সবার অধিকার। আপনারাই দেখেছেন কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে হয়েছে। দেশের আপামর জনসাধারণও জানে কতো কঠিন সময়ে সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচন করা হয়েছে। তার পরও সব ভোটকেন্দ্রে কাগজপত্র সঠিক সময়ে পৌঁছানো হয়েছে। এর পরও বেশ কিছু কেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছে। অসুবিধা হয়েছে। এ সবের পরও একটি অর্থবহ নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই মুহূর্তে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে যদি মধ্যবর্তী নির্বাচন করতে হয় তাহলে ইসি প্রস্তুত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সব সময় নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। যেমন—এখন যদি ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সীমানা জটিলতা নিরসন সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ করা হয় তাহলে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনও আইনের মধ্যে থেকেই করতে হবে। কবে নাগাদ ডিসিসি নির্বাচন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমানা জটিলতা নিরসন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করবে। সেই গেজেটের কপি হাতে পেলেই আমরা নির্বাচনে ব্যবস্থা করতে পারব। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘স্বল্প সময়ে’ বড় দুই সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আসন্ন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণও চান সিইসি।
বর্তমানে যে অবস্থা চলছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন দেই, কিন্তু তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র আছে। সেই গঠনতন্ত্র মেনে সে ভাবে চলে। এ ছাড়া, দলগুলো প্রতিবছর আমাদের কাছে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়।
স্মার্টকার্ড সব নাগরিকদের হাতে কত দিনের মধ্যে দেয়া সম্ভব হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাড়ে নয় কোটিরও বেশি ভোটারকে এক সঙ্গে স্মার্ট কার্ড দেয়া সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেয়া হবে। কিছুটা আইনি জটিলতা ছিল, আমরা সেগুলো নিরসন করেছি। এ ছাড়া এতগুলো কার্ড তৈরির কাজ শুরু করলেও অনেক সময় লাগেবে। এ সব বিষয়ে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 
এ দিকে গতকাল সকালে এনইসি সম্মেলনকক্ষে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় পাঁচ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব ছাড়াও বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমইডি, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামন মো. সালেহউদ্দিন বলেন, আইডিয়া প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। দেশের সাড়ে নয় কোটিরও বেশি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেয়ার প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক আলোচনা হয়েছে।