২০ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংঘর্ষ

এলজিইডি’র ২০ কোটি টাকার টেন্ডারের ঠিকাদারী কাজ পেতে গতকাল বুধবার যুবলীগ ও ছাত্রলীগ তাণ্ডব চালিয়েছে। ছাত্রলীগের হাতে যুবলীগ নেতাসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদার প্রহূত হয়েছেন। র্যাব ও পুলিশ খবর পেয়ে এলজিইডিতে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএম কলেজ কর্ম পরিষদের ভিপি ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষারসহ মোট ১১ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে। তবে পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া ও উজিরপুরে রাস্তা ও বাজার সংস্কারের জন্য ৮ গ্রুপের কাজের দরপত্র জমা দানের শেষ দিন ছিল। ঐ কাজ আগেই এখানকার জেলা ও মহানগর নেতাদের এড়িয়ে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম দেওয়ান ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা কর্ম পরিষদের ভিপি মঈন তুষার তাদের দল বল নিয়ে সকালেই এলজিইডি কার্যালয়ে পাহারা বসায়।
বেলা ১২টার দিকে মহানগর যুবলীগের যুুগ্ম আহবায়ক শাহিন সিকদার ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিরাজ দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদের মারধর করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর ২০ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম সাবিদ ও বাবুগঞ্জ যুবলীগ নেতা আল আমিন দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করে দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এক পর্যায়ে যুবলীগ নেতাদের সাথে আরো দরপত্র জমা দিতে আসা ঠিকাদাররা মিলে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলে খবর পেয়ে কোতোয়ালী পুলিশ গিয়ে সেখানে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে ক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতারা কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেনকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে র্যাব হাজির হলে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অ্যাকশনে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে  র্যাব-৮ এর সিপিসি-১ কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবুল বাশারের নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশ ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজদের ধরতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে। তারা ভিপি মঈন তুষারসহ মোট ১১ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত বলে র্যাব সূত্র জানিয়েছে। তবে র্যাবের একাধিক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, তুষারসহ যাদের আটক করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আনা হয়েছিল।