বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে মানববন্ধন, শান্তি সমাবেশ, মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলার প্রতিবাদে ৭ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামে ১৪ দলের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠকে এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভয়ালরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তার প্রতি আমরা আর কোনো আহ্বান জানাতে চাই না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। কোনো শৈথিল্য দেখালে চলবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সব পদক্ষেপে ১৪ দলের সমর্থন থাকবে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নৃশংসতারও একটা সীমা আছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৃশংসতা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার এক ছেলে মারা গেছে। এখন তো আপনাকে শোকাহত থাকার কথা। কিন্তু অন্য মা-বোনদের কোল খালি করছেন কেন? আপনার ছেলের কুলখানি না করেই দুই নাতনীকে পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাহলে হরতাল-অবরোধ দিয়ে এদেশের ১৫ লাখ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন কেন?
এদিকে বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ১৪ দলের শরিক নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। নাশকতা সৃষ্টিকারীরা এ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নাশকতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সবাই ঐক্যবদ্ধ। এক্ষেত্রে কোন দ্বন্দ্ব নেই।
সূত্র জানায়, ১৪ দলের আগামী দিনের কর্মসূচি ঠিক করার জন্য বৈঠক ডাকা হলেও এতে অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা। সারাদেশে নাশকতার দায়ে খালেদা জিয়াকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সে বিষয়ে কথা বলেন শরীফ নূরুল আম্বিয়া। তাকে সমর্থন করেন বাসদের একাংশের নেতা রেজাউর রশিদ খান। পরে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে নিরুত্সাহিত করেন মোহাম্মদ নাসিম। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে নাশকতাকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এই নাশকতা বন্ধে এর অর্থায়নের উত্স খুঁজে বের করার আহ্বান জানান ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শরিক দলের এক নেতা কথা তুললে এটা শিক্ষামন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া ত্বরিকত ফেডারেশন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সারাদেশে যেসব স্থানে ১৪ দলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠিত হচ্ছে সেখানে অনেক স্থানে তাদের নেতা-কর্মীদের কমিটিতে থাকার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। জবাবে মোহাম্মদ নাসিম ওইসব এলাকার নাম এবং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে চায় শরিক দলের ওই নেতাদের নামের তালিকা দিতে বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী ৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্তিযোদ্ধা, নারী সংগঠন, ঢাকার সব সংসদ সদস্য, আলেম ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে ১৪ দল। ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৭ ফেব্রুয়ারি জাসদের উদ্যোগে সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী দিবস পালন, ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সাম্যবাদী দলের উদ্যোগে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নিবেন।
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরণ রায়, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, গণ আজাদী লীগের এস কে শিকদার, ন্যাপের আব্দুর রশিদ, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত্ হোসেন প্রমুখ।
ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি এক শিশু ও এক নারীকে ‘মৃত’ ঘোষণার পর জীবিত হওয়ার ঘটনার বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল মন্ত্রণালয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কর্তব্যে গাফিলতি ও চরম দায়িত্বহীনতার সাথে জড়িত যেই হোক না কেন তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে।