মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন সংশোধনে গঠিত কমিটির সুপারিশে ইতিবাচক মত রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের। ফলে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট ও টার্নওভার (বার্ষিক লেনদেন) করমুক্ত সীমা নমনীয় করেই সংশোধন আসতে যাচ্ছে আইনে। আগামী বাজেট অধিবেশনে আইনটির সংশোধন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে বিশদ আলোচনায় অর্থমন্ত্রী কমিটির সুপারিশের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মত রয়েছে রাজস্ব বোর্ডেরও।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী ভারত, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভ্যাটের একাধিক হার রয়েছে। যেহেতু যুক্তরাজ্যের মত দেশেও একাধিক হারে ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে, সেজন্য হ্রাসকৃত একাধিক হার নির্ধারণ করার বিষয়টি ভাবা যায় বলে মত দেন অর্থমন্ত্রী। একইভাবে টার্নওভার করমুক্ত সীমা বাড়ানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। ওই বৈঠকে উপস্থিত রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ভ্যাট আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এলে তাকে বিষয়টি অবহিত করে তার মতামত নিতে চায় মন্ত্রণালয়।
নতুন ভ্যাট আইনে সংশোধনী আনার পক্ষে মত দেন এনবিআরের সদস্য ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়টি ভ্যাট আইনে সন্নিবেশিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, আইনটি করার সময় প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে - তা মূল্যায়নে নেয়া হয়নি। এটা একটা সমস্যা। এ জন্য ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানান। ভ্যাট বাস্তবায়নে অবশ্যই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কথা ভাবতে হবে।
তবে আইনটির বড় দুটি বিষয়ে সংশোধনকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কীভাবে দেখছে তা নিয়েও ভাবছে সরকার। ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ভ্যাট আইন করা ছিল সংস্থাটির অন্যতম শর্ত। এখনো সংস্থাটির ঋণের সর্বশেষ কিস্তি ছাড় হয়নি।
২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন পাস করে সরকার। আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল গত জুলাই থেকে। ওই আইনে সব ধরনের পণ্য ও সেবাকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের আওতায় আনা হয়। এছাড়া টার্নওভার ভ্যাটমুক্ত সীমা করা হয় ২৪ লাখ টাকা। এর বাইরে ভ্যাট আদায়কারী কর্মকর্তাদেরও কিছু বাড়তি ক্ষমতা দেয়া হয়। ওই আইন নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে ব্যবসায়ীরা। তরা বলেন, বড় কোম্পানিগুলোর পক্ষে উপকরণ রেয়াত নেয়া সম্ভব হলেও বিশাল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উত্পাদকদের পক্ষে তা সম্ভব হবে না। ফলে আইনটিতে বড় সমস্যায় পড়বে এসব ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির মুখে আইনটির পর্যালোচনায় নতুন করে এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদকে চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিনকে কো-চেয়ারম্যান করে কমিটি গঠন করা হয়। নতুন ডেটলাইন অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন ভ্যাট আইন। এর আগেই সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
হ্রাসকৃত হারে ভ্যাটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে কমিটির চেয়ারম্যান আলী আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ভ্যাটের একই হার থাকলে ভালো হতো। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় এটি বাস্তবসম্মত নয়। সে জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনে ২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (লেনদেন) মুক্ত সীমা করা হলেও সুপারিশে এটি বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হয়েছে। এর পরবর্তী দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ২ শতাংশ এবং পরবর্তী টার্নওভারের জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।