সংঘাত পরিহার করে সমোঝতার ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাদাপতাকা হাতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী ১৭ কিলোমিটার-ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি থেকে সরে আসতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে এবং সংকট নিরসনে কার্যকর সংলাপের পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির এবং চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। অন্যথায় কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর ও চরমোনাই পীরসাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে ‘জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা নিরসনে অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ নেয়ার দাবিতে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, সংসদ ভবন, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, মতিঝিল, সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শত শত নেতা-কর্মী-সমর্থক—সবাই সাদাপতাকা হাতে শান্তির আহ্বান জানান। মানববন্ধনে প্রেসক্লাবের সামনের অংশে অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
সরকারকে উদ্দেশ করে চরমোনাইর পীর রেজাউল করীম বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষের বুকে গুলি চালাবে আর আমরা নীরব হয়ে সেটা দেখব, তা হতে পারে না। মানুষ মরবে আর আপনি লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করবেন—এটা আমরা হতে দিতে পারি না।’
বিএনপি জোটকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘অপর দিকে, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করবে, সেটাও বাংলার মানুষ সহ্য করবে না। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করা বাংলার মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে ব্যবস্থা নিতে ইসলামী আন্দোলন আহ্বান জানিয়েছিল কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। তাই শান্তির দাবিতে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে।’
শীঘ্রই এই সংকট সমাধানে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জেলায় জেলায় সাদাপতাকা হাতে মানববন্ধন করা হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি থানাপর্যায়ে মানববন্ধন করা হবে বলে জানান তিনি। এর পরও সমাধান না হলে সারাদেশ থেকে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে সাধারণ জনগণ রাজধানী ঢাকায় সমবেত হবে। এভাবে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর। বোরখা পড়ে কলেজে আসা যাবে না সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রেজাউল করীম।
কর্মসূচিতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিন আল-মাদানী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা নুরুল হুদা, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম হেমায়েত উদ্দীন প্রমুখ।