বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এখন যারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, তারাই অতীতে আন্দোলনের নামে যাত্রীবাহী বাসে গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে ডজন খানেক মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তাণ্ডব মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় নিরপরাধ মানুষকে নৃশংস পন্থায় হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এর দায় চাপিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে এই সুযোগে বিরোধীদলকে দমন করার অপরাজনীতি ব্যর্থ হবে।’ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন।
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে খালেদা জিয়া জনগণের ভোটের ও গণতান্ত্রিকর অধিকার আদায়ের অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে বলে ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। একটি যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের তত্পরতাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আখ্যা’ দিয়ে এর বিরুদ্ধে বিশ্ব সমপ্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ লাগাতার হরতালে এসএসসি পরীক্ষা তিন মাস পর্যন্ত পেছাতে বাধ্য করেছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ‘তার ছোট ছেলের মৃত্যুতে তিনি শোকাবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এ বিপর্যয়ের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই তার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সুপরিকল্পিতভাবে সর্বমুখী চাপ ও অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করে তারা আমাকে জনগণ ও নেতা-কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সচেষ্ট। কিন্তু আমি সবাইকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো অনৈতিক চাপ বা ভীতির মুখে আমি নত হব না, ইনশাল্লাহ। যেকোনো পরিস্থিতি বা পরিণতির জন্য আমি তৈরি আছি।’
বিএনপির আন্দোলনকে আবারও ‘সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক’ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলাকালে যাত্রীবাহী ও অন্যান্য যানবাহনে পেট্রলবোমা মেরে ইতোমধ্যে নারী-শিশুসহ বেশ কয়েকজন নাগরিকের জীবন কেড়ে নেয়া হয়েছে। এসব ঘৃণ্য হামলার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই জনমনে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আমি পরিষ্কার ভাষায় আবারো বলতে চাই, মানুষের জীবন নিয়ে অপরাজনীতি আমরা করি না। হত্যা ও লাশের রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন হীন ও নৃশংস অপরাজনীতি আমরা কখনো করব না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী শাসকদের একদলীয় ধাঁচের স্বৈরশাসন কায়েমের অপতত্পরতার কারণে অতীতে দেশ জঙ্গিবাদের কবলে পড়েছিল। আমরা তা দমন করেছিলাম। আজ আবার তারা একই কায়দায় উদারনৈতিক রাজনীতির ধারাকে নিশ্চিহ্ন করতে যে চণ্ডনীতি অবলম্বন করছে, তাতে আবারো সেই একই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। আমরা এই কঠিন বাস্তবতার দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
২০ দল প্রধান অভিযোগ করেন—প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলসমূহের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ৬ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি, সাঁজানো বন্দুকযুদ্ধ ও নৃশংস অন্যান্য পন্থায় হত্যা করা হয়েছে। গুলি করে ও অন্যান্য পন্থায় আহত করা হয়েছে শত শত নেতা-কর্মীকে। আটকের পর নিখোঁজ রয়েছে অসংখ্য নেতা-কর্মী। ১৭ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কয়েক লাখ। অনেকের বাড়ি-ঘরে গভীর রাতে হানা দিয়ে ভাংচুর, লুঠতরাজ, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এভাবে সারা দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই অবস্থায় আন্দোলন ছাড়া দেশবাসীর সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখা হয়নি|’