চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকায় এফভি রাজিব নামের একটি মাছ ধরা ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ৫৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটায় নৌবাহিনীর এন্টি স্মাগলিং সেলের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে কেউ আটক হয়নি। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক মাছ ধরা ট্রলারটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় জিডি করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবা উদ্ধারের এটাই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকা থেকে এই ইয়াবার চালান উদ্ধার করে নৌবাহিনী। মিয়ানমারে একটি ইয়াবা ৩০ টাকা করে বিক্রি হয় বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। তবে বিভিন্ন হাত ঘুরে বাংলাদেশে প্রতি পিস ইয়াবা ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সর্বোচ্চ মূল্য হিসাব করলে আটক ইয়াবাগুলোর মূল্য ৫৬ কোটি টাকা। আটক এসব ইয়াবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নৌবাহিনীর এন্টি স্মাগলিং সেলের কমান্ডার এসএম আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বিশাল চালান সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে আসছে এরকম একটি তথ্য আমাদের কাছে ছিল। ইয়াবাগুলো কর্ণফুলি নদীর বাংলাবাজার ঘাটে খালাস হবে বলে আমরা জানতে পারি। বুধবার দিবাগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় গভীর সাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা ট্রলারটি অনুসরণ শুরু করলে সেটি দ্রুত আনোয়ারা উপজেলার পারকি সৈকতের দিকে চলে যায়। সৈকতের কাছাকাছি গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে ট্রলারের লোকজন পালিয়ে যায়। পরে সেখানে তল্লাশি করে ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম মহানগর) উপ-পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ইয়াবার একটি বিশাল চালান চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর একটি ঘাটে নামানো হবে। এই অনুযায়ী কর্ণফুলির তিনটি ঘাটে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। ইয়াবাগুলো নামার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সেগুলো ধরে ফেলতাম। কিন্তু তার আগেই নৌবাহিনী সেগুলো ধরে ফেলে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় জিডি হয়েছে। তদন্তের পর জড়িতদের কাউকে আটক করা সম্ভব হলে নিয়মিত মামলা হবে।