দৃশ্যত মনে হচ্ছে, আরেকটি শীতল-যুগের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক।
গত অক্টোবরে নতুন করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দায়িত্ব পাওয়া শাহরিয়ার খানের বাংলাদেশ সফরের ভেতর দিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছিল। সেই অনুযায়ী এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের সফরে আসাটাও একরকম চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু আবার শুরু হওয়া টানাপোড়েনে একরকম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের সফরে আসা। গতকাল সর্বশেষ পিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের দাবি দাওয়া না মানলে সফর বাতিল করেই দেওয়া হবে।
এই ‘হুমকি’র ব্যাপারে অবশ্য এখনই পাল্টা মন্তব্য করতে চাইছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রতিষ্ঠানের প্রধাণ নির্বাহী নিজামউদ্দিন সুজন বলছেন, পিসিবির প্রস্তাবের সাপেক্ষে যে লিখিত জবাব তারা দিয়েছেন, সেটারই আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করছেন তারা। এর বাইরে এরকম ‘বেনামী’ মন্তব্যের জবাব দেবেন না তারা।
বাংলাদেশের কথিত পাকিস্তান সফরের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ নিয়ে এর আগে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। এমন প্রতিশ্রুতি পেয়ে আইসিসির সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আ হ ম মোস্তফা কামালকে পিসিবি সমর্থন দিয়েছিল বলেও তারা দাবি করেছিল। সেই ‘প্রতিশ্রুতি’ দুই দফা বাংলাদেশ রাখতে পারেনি; এর মধ্যে একবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে সফর বাতিল হয়। এসব কারণে পাকিস্তান দ্বিতীয় বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাদের খেলোয়াড় না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জাকা আশরাফের সময়ে চরমে ওঠা এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বশেষ ঢাকা সফর করেন নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া পিসিবি প্রধাণ শাহরিয়ার খান। আর এই সময়েই শুরু হওয়া আলোচনা থেকে ‘ভবিষ্যত সফরসূচী’তে (এফটিপি) সংযুক্ত হয় যে, পাকিস্তান এপ্রিল মাসে একটি পূর্নাঙ্গ সফরে ঢাকায় আসবে।
১০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত এই সফরে পাকিস্তান দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। সে জন্য বিসিবি সূচীও এক ধরণের চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। ঠিক এই সময়ে দুবাইতে আইসিসির বার্ষিক সভার পাশাপাশি বিসিবি প্রতিনিধিদের পিসিবি এক অভিনব শর্ত দেয়।
পিসিবি দাবি করে যে, এই সফরের থেকে বিসিবির মোট আয়ের অর্ধেকটাই তাদের দিয়ে দিতে হবে! শুধু তাই নয়, এই সফরের বিনিময়ে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের একটি করে সফরও চূড়ান্ত করতে হবে। এই শর্তগুলো তারা গত সপ্তাহে আইসিসি সভার পাশে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিসিবির প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেন; সে বৈঠকে অবশ্য বিসিবি সভাপতি থাকতে পারেননি।
পরে বিসিবি সভাপতি জানান, তিনি প্রধাণ নির্বাহীর মারফত ব্যাপারটি জেনেছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলে দেন, নিরাপত্তার সঙ্গে আপোষ করে পাকিস্তান সফরে কোনো দল পাঠানো হবে না। আর লাভ ভাগাভাগিতেও ‘না’ করে দেন তিনি। তবে বলেন যে, পাকিস্তান দলের বিমান ভাড়াসহ অন্য অল্প কিছু খরচ দেওয়া চলতে পারে।
কিন্তু পিসিবি সে প্রস্তাব মানতে রাজী হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের তহবিল থেকে টাকা খরচ বরে বাংলাদেশ সফরে দল পাঠাতে রাজী নই।’
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিসিবির প্রধাণ নির্বাহী বললেন, ‘নাম প্রকাশ করে কেউ কথা বললে, আমরা দায়িত্বশীল কারো কথা বলে হয়তো ভাবতে পারতাম। কিন্তু এটা তা নয়। আর আমরা তাদের একটি চিঠি দিয়েছি, সেটার জবাব পেলে তবেই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সম্ভব।’