আর কত লাশ হলে তিনি শান্তি পাবেন :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস’র (ইসলামিক স্টেট) সাথে বিএনপি জোটের কর্মকাণ্ডের পার্থক্য কোথায়? আইএসও মানুষ পুড়িয়ে মারছে, বিএনপি-জামায়াত জোটও নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করছে। আসলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের ওপর জিঘাংসা চরিতার্থ করছেন। উনি বাংলাদেশকে জল্লাদখানা বানাতে চান। এই জল্লাদের কাছে অরণ্য রোদন করে কোন লাভ নেই। কী বিভত্স ঘটনা বাংলাদেশে ঘটাচ্ছেন এই মহিলা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে চিন্তা নিয়ে এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, ঠিক  একই উদ্দেশে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে উনি গণহত্যা চালাতে চাচ্ছেন। পুত্র শোকও তাকে টলাতে পারেনি। বাংলাদেশকে উনি ধ্বংস করে দিতে চান। এজন্য তিনি ধ্বংসলীলায় নেমেছেন। বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা-নাশকতা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জানমালের নিরাপত্তায় যা করা দরকার সরকার তার সব পদক্ষেপই নেবে। এজন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, বিএনপি জোটের সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে, গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি যেন এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করেন। আর যেন হরতাল-অবরোধ না দেন। ভয়-আতঙ্কের মধ্যে নয়, নির্বিঘ্নে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাটুকু দিতে দিন। দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনকে ধ্বংস না করেন। দেশের ভবিষ্যত্ নাগরিকদের জীবন ধ্বংস করে দিয়ে উনি কী পেতে চান? তাই বলবো, পরীক্ষার সময়টুকু একটু ক্ষান্ত দিন, পরে আবার শুরু করেন।
খালেদার প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, তার (খালেদা) আর কত রক্ত দরকার? আর কত লাশ পড়লে তার আত্মার শান্তি আসবে? খালেদা জিয়া আসলে জামায়াত-জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে একেকটা পরিবারের ভবিষ্যেক ধ্বংস করে দিচ্ছে। আইএস যেভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারছে, তার চেয়েও ভয়ঙ্করভাবে খালেদা জিয়ারা মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। কিন্তু এসব সহ্য করা হবে না।
ফুটবলে বাংলাদেশের বিজয় এবং সুষ্ঠুভাবে এসএসসি’র প্রথম পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসির প্রথম পরীক্ষায় উপস্থিতিও সন্তোষজনক। বিএনপি-জামায়াতের হিতাহিত জ্ঞান নেই, উম্মাদ হয়ে গেছে বলেই ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যেকও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। কিসের আশায় বিএনপি নেত্রী এসব করছেন? আসলে উনি কি চান? এদের কাছে ব্যক্তি স্বার্থই বড় কথা, দেশের লাখ-কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ এদের কাছে কিছু নয়।
কোকোর মৃত্যুর পর শোকে কাতর মা খালেদা জিয়াকে সহানুভূতি জানাতে গিয়েও বিএনপির কার্যালয় থেকে ফিরে আসার ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলের মৃত্যুতে সহানুভূতি জানাতে ছুটে গেলাম। কিন্তু গেটে তালাবন্ধ করে অপমান করে আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। একজন চরম শত্রুও এমন শোকের সময় গেলে কাউকে ফিরিয়ে দেয় না। ওই সময় কি বিএনপির কার্যালয়ে একজন ভদ্রলোকও ছিলেন না, তারা আমাকে ভেতরে নিয়ে তাদের কাছেই শোক জানাতে দিতে পারতেন। পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের দুই নেত্রীর ফোনালাপের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আগেও সবকিছু ভুলে টেলিফোন করেছিলাম। কিন্তু সে সময়ও আমাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছে। একটা ফোন ধরতেই তার ৭ ঘণ্টা লেগে যায়। শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো নিজের মা-বাবা হারিয়েছি। সব জেনেও দেশের স্বার্থে আমি ফোন করেছি। ফোন করে যা শুনেছি, তা তো মানুষ জানে, আমরা তো এগুলো শুনতে অভ্যস্ত না। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানও বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর ২১ আগস্ট আমাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি নেত্রী, তার পুত্র ও তার মন্ত্রীরা জড়িত। এরপরও ফোন করেছিলাম। আবার পুত্রের মৃত্যুর পর শোক জানাতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ও আঁতেল আছে তারা সংলাপ ও আলোচনার কথা বলেন। কিন্তু দেখা করতে গিয়েও দুর্ব্যবহার করা হলো। এখন তারা কী বলবেন?
শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসী ভেবেছিল, ছেলের মৃত্যুর পর হয়তো খালেদা জিয়া অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করে মানুষ হত্যা বন্ধ করবেন। কিন্তু তা করেননি। কেমন নিষ্ঠুর মা বিএনপি নেত্রী যে মৃত ছেলের লাশটুকুও বাড়িতে নেননি। একটিবার কবর জিয়ারত পর্যন্ত করতে যাননি। দোয়া-দুরুদও পড়তে তাকে দেখা যায়নি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তো কোকো অসুস্থ ছিল। কি এমন কাজ ছিল যে বিএনপি নেত্রী একটিবার মালয়েশিয়ায় গিয়ে ছেলে, নাতি-পুতিদের সঙ্গে সময় কাটালেন না, দেখতে পর্যন্ত গেলেন না! তিনি বলেন, যার ছেলের মৃত্যুতেও শোক নেই, সেই নেত্রী দেশের মানুষের কষ্ট-যন্ত্রণার কথা বুঝবেন কী করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুত্রের স্বাভাবিক মৃত্যুতে বিএনপি নেত্রীকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়, আর যে মা বা বাবা নিজের সামনে সন্তানকে পুড়ে মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখেছে তার মনে ভীষণ যন্ত্রণা, কষ্ট ও ব্যথা কী খালেদা জিয়া অনুভব করেন না? তার হূদয় কী এতটুকুও ব্যথিত হয় না। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা-সহিংসতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।