সিরিয়ায় জর্দানের বিমানহামলায় আইএসের হাতে বন্দি মার্কিন নাগরিক কায়লা জেন মুলারের নিহত হওয়ার দাবি মেনে নেয়নি তার মা-বাবা। তাদের সন্তান এখনো বেঁচে আছে—এমন বিশ্বাস থেকে তারা জঙ্গি গ্রুপটিকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন। এ দিকে, হোয়াইট হাউজও বলেছে—মুলারকে হত্যা করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খবর আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্সের।
মুলারের মা-বাবা বলেছেন তারা বিশ্বাস করেন—ত্রাণকর্মী কায়লা জেন মুলার এখনো বেঁচে আছেন। তাকে একজন ‘অতিথি’ হিসেবে বিবেচনা করতেও জঙ্গিদের আহ্বান জানান তারা। মুলারের নিহত হওয়ার দাবি করে আইএসের বিবৃতির পর তার মা-বাবা বলেন, ‘খবরটি আমাদের উদ্বিগ্ন রেখেছে, যদিও আমরা এখনো বিশ্বাস করি—কায়লা বেঁচে আছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করে—সিরিয়ার রাক্কায় জর্দানের চালানো বিমানহামলায় তাদের হাতে বন্দি এক মার্কিন নারী নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়—কায়লা জেন মুলার নামের ওই নারী শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিহত হন। তবে তারা তাদের এ দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না দিয়ে কেবল একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ছবি প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ত্রাণকর্মী মুলার ২০১২ সালে সিরিয়ায় যান। ২০১৩ সালের আগস্টে সিরিয়ার আলেপ্পো শহর থেকে আইএস সদস্যরা তাকে আটক করে। তার নিহত হওয়ার দাবি সত্যি হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ নাগরিক, যিনি আইএসের হাতে বন্দি অবস্থায় নিহত হলেন। এর আগে সাংবাদিক জেমস ফোলে ও স্টিভেন সটলফ এবং ত্রাণকর্মী পিটার কাসিগের শিরশ্ছেদ করেছিল আইএস জঙ্গিরা।
এ দিকে, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন—ইসলামিক স্টেটের ওপর জর্ডানের বিমানহামলায় মার্কিন নাগরিক মুলারের নিহত হওয়ার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নারী মুখপাত্র বার্নাডেট মেহান বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। তবে এখন পর্যন্ত আমরা আইএসের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাইনি।’ বিমানহামলায় মুলারের নিহত হওয়ার আইএসের দাবিটি জর্দানের সরকারি কর্মকর্তারাও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা একে ‘অপরাধমূলক প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি একটি অযৌক্তিক দাবি এবং আমরা এতে সন্দেহ প্রকাশ করছি।’