জনতার রুদ্ররোষ থেকে খালেদা জিয়া রেহাই পাবেন না: নাসিম

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একদিকে গুলশানের সুসজ্জিত অফিসে বসে সারাদেশে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যার হুকুম দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার সংলাপের কথা বলছেন। এই মহিলা ইতিমধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সাথে কীসের সংলাপ?

চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ৮ যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে ১৪ দলের উদ্যোগে স্থানীয় নোয়াবাজার ফুড প্যালেস মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর পাঁচ বছর খালেদার গুণধর  পুত্র তারেক হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করে। লুণ্ঠিত ওই অর্থ পেট্রোল বোমা হামলাসহ বিভিন্ন সহিংসতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের এ ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে বলেছে। কিন্তু কিছুতেই খালেদা নিবৃত হচ্ছেন না। তার জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ফুঁসে উঠছে। জনতার রুদ্ররোষ থেকে খালেদা রেহাই পাবেন না।       
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি বলেন, আমাদের পবিত্র মাটি আজ আক্রান্ত। একাত্তরে যাদেরকে পরাজিত করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তারা এখন নেই। কিন্তু তাদের প্রেতাত্মারা এখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে।
রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি বলেন, শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করেছে বিএনপি জামায়াত-শিবির। তারা নিরীহ মানুষকে বোমা মেরে পুড়ে মারছে। তবে এখন থেকে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের কোন গুন্ডামি সহ্য করা হবে না।
জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি মাঈন উদ্দিন খান বাদল এমপি বলেন, যারা বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে তাদের আমরা খুঁজে বের করব। যারা মেরেছে, পয়সা দিয়েছে ও যোগান দিয়েছে তাদের প্রত্যেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
সাম্যবাদী  দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মানুষ হত্যা করে কোন গণআন্দোলন হয় না। ইসলাম ধর্মে মানুষ হত্যাকারীর কোন ঠাঁই নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত তা নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস ছোবহান ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এমপি, হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি, তাজুল ইসলাম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান প্রমুখ।
সংলাপ ও মধ্যবর্তী কোন
নির্বাচন হবে না : নাসিম
মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করে বিএনপি এখন সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। ভয়কে জয় করে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারও কঠোর হাতে সন্ত্রাসীদের দমন করবে। তাদের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এর একদিন আগেও কোন নির্বাচন হবে না।
গতকাল শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিএনপি জোটের সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশেনের (বিএমএ) যৌথ উদ্যোগে দেশজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মানুষকে জিম্মি করে কোন অন্যায় দাবি বর্তমান সরকারের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। সন্ত্রাসীদের পরাজয় অবশ্যই হবে।
জাসদ নেতা মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এখন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হয়েছেন। তাদের বিনাশ না করা পর্যন্ত গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বিএমএ’র মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।
সাজেদা চৌধুরীর শয্যাপাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল রাতে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে দেখতে যান। এসময় তিনি কিছু সময় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং চিকিত্সার খোঁজখবর নেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নূরুল হক উপস্থিত ছিলেন।