ঈশ্বরদী স্টেশনের অদূরে কলকাতা-ঢাকা অভিমুখি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে পেট্রোলবোমা হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। ৩টি পেট্রোলবোমা ইঞ্জিন লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। এতে একজন ট্রেনচালক আহত হন। এই হামলার সাথে সাথে ট্রেনটি ইয়ার্ড এলাকাতেই থামিয়ে দেয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। ট্রেনের চালক মিজানুর রহমান জানান, ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ট্রেনটি ২টা ৫০মিনিটে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ২টা ৫৩মিনিটে ইয়ার্ড এলাকায় ইঞ্জিন লক্ষ্য করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ৩টি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় ইঞ্জিনের জানালা বন্ধ থাকায় সেগুলো ছিটকে বাইরে চলে যায়। ফুয়েল ট্যাংকের কাছে একটি বিস্ফোরিত হলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। পেট্রোলের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে তা সাথে সাথে নিভিয়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন হতে ছেড়ে আসার পর প্রথমে দর্শনাতে কাস্টমস চেকিং হয়। পরে দর্শনা হতে ছেড়ে এসে পানি নেয়ার জন্য ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। মৈত্রী এক্সপ্রেস ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রা বিরতি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার পরই পেট্রোলবোমা হামলার শিকার হয়।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ইঞ্জিনের তেমন ক্ষতি হয়নি বলে উল্লেখ করে জানান, ইঞ্জিন বদল করে আবার ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, ঈশ্বরদী রেল ইয়ার্ড এলাকায় রেল পুলিশ, রেল নিরাপত্তা বাহিনী এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করলেও এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা কিভাবে ঘটলো এ ব্যাপারে উপস্থিত জনতার সামনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন।