নজরদারিতে আসছে মোবাইল ব্যাংকিং

এবার মোবাইল ব্যাংকিং-এ যুক্ত মোবাইল ফোনে আড়িপাতা হবে-এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। অব্যাহত সন্ত্রাস-সহিংসতায় অর্থ আদান-প্রদানে মোবাইল ব্যাংক জড়িত থাকতে পারে এই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দেশে ২৮টি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংক সারাদেশে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সূদুর গ্রামাঞ্চলেও এর নেটওয়ার্ক রয়েছে। দ্রুতই হাতে টাকা প্রাপ্তির বা লেনদেনের বড় মাধ্যম এটি।
বহুল আলোচিত ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে বিকাশ, প্রাইম ব্যাংকের ইজি ক্যাশ, ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংকের শিওর ক্যাশ, ব্যাংক এশিয়ার মোবাইল ব্যাংকিং, ঢাকা ব্যাংকের এসএমএস ব্যাংকিং, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের এসএমএস ব্যাংকিং, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ, কমার্স ব্যাংকের শিওর ক্যাশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ইউক্যাশ, ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি। এজেন্ট বা বাণিজ্যিক ছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে এসব ব্যাংকিং-এর সঙ্গে যুক্ত। এসব ফোন নম্বর দেশে অনুমোদিত একাধিক মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন সূত্র বলছে, একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ধারণা হয়েছে যে, রাজধানী ঢাকা বা দেশের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে টাকা পাঠিয়ে ভাড়াটিয়া ঠিক করে তাদের মাধ্যমে বিদ্যমান পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। এই মাধ্যমে তাই সরকার নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
টেলিযোগাযোগ আাাইনের ৯৭ (ক) ধারায় বলা আছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারকারীর পাঠানো বার্তা ও কথাবার্তা প্রতিহত, ধারণ বা এ সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহে সরকার সময়ে সময়ে নির্ধারিত সময়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে সম্পৃক্ত কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে পারবে। ওই আইনের অধীনে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ঢালাওভাবে সব ফোনে আড়িপাতা বা নজরদারির প্রয়োজন আছে কী-না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কী ধরনের কৌশল এক্ষেত্রে অবলম্বন করা হবে তাও ঠিক করার কাজ চলছে। এ কর্মকর্তা বলেন, লেনদেনের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম চালানো হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ২০১৪ সাল শেষে গ্রাহক সংখ্যা আড়াই কোটি পেরিয়েছে। আগের মাস নভেম্বর শেষে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল দুই কোটি ৩৩ লাখ। ২০১০ সালে চালু হওয়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক দ্রুতই বাড়ছে। এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে এর গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি অতিক্রম করে। আর গত বছরের মার্চে গ্রাহক দেড় কোটি ছাড়িয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে তা দুই কোটি ছাড়ানোর পর ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রায় ২৫ লাখ লেনদনের বিপরীতে ১০ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা উত্তোলন ও জমা হয়। এতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।