তারুণ্যমুখর বইমেলা

তরুণ পাঠকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল গতকালের বইমেলা। ছুটির দুটি দিনের পর গতকাল মেলায় ক্রেতা পাঠকদের আনাগোনা ছিল কম। তবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলার জন্যও সন্ধ্যার পরে মেলায় ক্রেতা-পাঠকের উপস্থিতি কম ছিল।

বিকালে তরুণ পাঠকদের আনাগোনায় প্রাণ পেয়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই ক্রেতাদের সবাই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী। দলে দলে মেলায় এসে স্টলগুলোতে ভিড় জমিয়েছিল। মেলায় ঘুরেফিরে, আড্ডা দিয়ে মেলাকে সরগরম করে তুলেছিলেন তারা। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গড়াবার সাথে সাথে বেড়েছে সেই ঢলের মাত্রা। আর ‘সেলফি’ তোলা ছিল মেলা প্রাঙ্গণে তরুণদের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয়। সেলফি তোলার হাত থেকে রেহাই পেলেন না কবি-সাহিত্যিকরাও। কবি আনিসুল হক সময় প্রকাশনীর স্টল থেকে বের হয়ে হাঁটার সুযোগ পেলেন না, তাকে ঘিরে ধরলো ছেলে-মেয়েরা। বইয়ে অটোগ্রাফ নেয়া, ছবি তোলাও চললো সমানতালে।
নতুন বই
একাডেমির তথ্যকেন্দ্র এবং সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রবিবার মেলার অষ্টম দিনে নতুন ১৩০টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ২০, উপন্যাস ২৩, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ৩৯, গবেষণা ৫, ছড়া ৪, নাটক ১, বিজ্ঞান ৫, ভ্রমণ ১, মুক্তিযুদ্ধ ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ৩০টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও গতকাল নজরুল মঞ্চে ২টি নতুন বইয়ের মোড়ক খোলা হয়।
আগামী প্রকাশনী এনেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘একদা এক যুদ্ধে’, অমর সাহার ‘কলকাতায় বাংলাদেশ’, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘কালের সাক্ষী’, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর ‘শামসুর রাহমান ও বন্ধু’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘গুনাই বিবির কিচ্ছা’, মুর্তজা বশীরের ‘আমার জীবন ও অন্যান্য’, মাওলা ব্রাদার্স থেকে এসেছে সালেহা চৌধুরীর ‘আয়নায় সময়’, বেগম আকতার কামাল সম্পাদিত ‘বিশ শতকের প্রতীচ্য সাহিত্য ও সমালোচনাতত্ত্ব’, মহাদেব সাহার ‘কে জড়ালো এই যন্ত্রজালে’, রয়েল থেকে এসেছে নির্মলেন্দু গুণের ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’, মহাদেব সাহার ‘নির্বাচিত ১৫০ কবিতা’, শিখা প্রকাশনী দন্তস্য রওশনের ‘ফোনটা ভিন গ্রহে চলে যায়’, অন্যপ্রকাশ  থেকে এসেছে নূহ-উল-আলম লেনিনের ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’, কাকলী আনিসুল হকের ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’, ঐতিহ্য খসরু চৌধুরী অনূদিত ‘মন্দিরের বাঘ এবং কুমায়ুনের আরও মানুষখেকো’, মিছিল খন্দকারের ‘মেঘ সামান্য হাসো’, চন্দ্রদীপ আলী ইমামের ‘অপারেশন কুয়াকাটা’, দীপু মাহমুদের ‘মংমং মারমার যুদ্ধজয়’, নন্দিতা প্রকাশ ভাস্বর চৌধুরীর ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’, চারুলিপির ওবায়দুল কাদেরের ‘তিন সমুদ্রের দেশে’, শুভ্রপ্রকাশ আহসান হাবীবের ‘কিশোর গল্প সমগ্র’ ও ‘উপন্যাস সমগ্র’, উত্স প্রকাশন  থেকে এসেছে মোস্তফা সেলিম সম্পাদিত ‘গিয়াসউদ্দিন আহমেদ সমগ্র’, হাসান হাফিজের ‘স্মৃতি শুধুই বেদনা’, রবিউল হাসানের ‘নওশা বাকের চিঠি’, দিব্যপ্রকাশ ফয়েস কবীরের ‘বারো বর্ণা’, কথা প্রকাশন আবুল কাশেমের ‘কাটাবৃক্ষের ছায়া’, হাসান আজিজুল হকের ‘শামুক’, ইত্যাদি আহমেদ রিয়াজের ‘একাত্তরের রবিনহুড’ উল্লেখযোগ্য। আজ সোববার মেলার দ্বার খোলা হবে বিকাল ৩টায়। চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
মেলামঞ্চের আয়োজন :রবিবার মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জন্মশতবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন সৈয়দ আজিজুল হক ও অধ্যাপক নিসার হোসেন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাজেদ ফাতেমীর পরিচালনায় অংশ নেন নকশি কাঁথা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিল আফরোজ রেবা, চন্দনা মজুমদার, আবু বকর সিদ্দিক, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, অনিমা মুক্তি গোমেজ, নূরুল ইসলাম, এনামুল হক ও শাহ আলম।

আজকের আয়োজন :সোমবার মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিশততম জন্মবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ পাঠ করবেন অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ। অধ্যাপক খোন্দকার সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা করবেন মোরশেদ শফিউল হাসান ও মোহাম্মদ আজম।