‘মাইয়াটারে ধুমধাম করে বিয়ে দিমু। ট্যাকার জন্য মাইয়ার বাপেরে নিয়ে ঢাকা গেনু। তাইং আর হইল না। মাইয়াটারে ওরা পুড়ি মারল! হামার সউগ আশা শেষ।’ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন মানবরূপী নরপশুদের নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৫ম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিনের মা শেফালি বেগম।
গত ১৩ জানুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুরের বাতাসন এলাকায় ঢাকাগামী নাইটকোচে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় একই এলাকার বাদাম বিক্রেতা রহিম বাদশা ও তার মায়ের সঙ্গে জেসমিনও নিহত হয়। ঘটনার ৫ দিন পর লাশ তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল দুপুরে জেসমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শুনসান নীরবতা। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঘটনার ২৭ দিনেও জেসমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি কোন রাজনৈতিক নেতা। আর্থিক সঙ্কটে সহায় সম্বলহীন জেসমিনের বাবা-মা নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তবে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ তাদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করে বলে জানিয়েছেন জেসমিনের বাবা রিক্সাচালক আ. জব্বার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন স্থানীয় তবকপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার কয়েক বছর আগে জব্বার বসতভিটা বড় ভাই খালেকের কাছে বিক্রি করে বড় মেয়ে জবার বিয়ে দিয়ে সপরিবারে ঢাকায় যান। সেখানে তারা রিক্সা চালিয়ে ও ঝি-এর কাজ করে সংসার চলাচ্ছিলেন। প্রায় ১ বছর আগে জেসমিন বাবা-মার কাছ থেকে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে জ্যাঠাদের কাছে ফিরে আসে। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।
সদা হাসিখুশি জেসমিন স্কুলে নাচ-গান করে সহপাঠিদের মাতিয়ে রাখতো। এজন্য শিক্ষক-সহপাঠি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল সে। বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার জন্য ঘটনার দিন বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের রহিম বাদশা ও তার মা রহিমার সাথে সে বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিল। পথে মর্মান্তিক ওই ঘটনায় গাড়ির ভিতরে আগুনে পুড়ে ৩ জনেরই মৃত্যু হয়।