কেমনে কিস্তি পরিশোধ করবেন আর দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালাবেন শহিদুলের স্ত্রী কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। সুস্থ মানুষটা চোখের ওপর দিয়ে পুড়ে এই ভাবে মরে যাবে এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না তার। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে এইসব ভেবেই কি পাথর হয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন তার স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম!
টানা এক সপ্তাহ মৃত্যুর লড়াই করে অবরোধের আগুনে দগ্ধ রাজশাহীর ট্রাক হেলপার শহিদুল ইসলাম (৪০) চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন জানান, ‘ট্রাক হেলপার শহিদুলের শ্বাসনালীসহ শরীরের ২৮ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর মোল্লাপাড়ায় অবরোধ সমর্থকদের পেট্রোল বোমার আগুনে ড্রাইভার সাইদুল ইসলামের সঙ্গে হেলপার শহিদুল ইসলামও দগ্ধ হন।
শহিদুলের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, ‘সম্প্রতি ঋণ করে তারা ঘর তুলেছিলেন। সপ্তাহে ৭০০ টাকা কিস্তি টানতে হয়। অবরোধ শুরুর পর কোনো কিস্তিই তারা দিতে পারেননি। সংসার চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। কোনো উপায় না দেখে তার স্বামী ট্রাকে উঠেছিলেন। এমন সুস্থ মানুষটার মৃত্যুর পর দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনি কোথায় দাঁড়াবেন?’