প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মতো অমানবিক কাজ করছে তারা দেশ, মানবতা ও জনগণের শত্রু। দেশবাসী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধের নামে চলমান সহিংসতাকে ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’ হিসাবে অভিহিত করে তা কাটিয়ে উঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫’ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে চার দিনের এই মেলা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কিছু মানুষের সৃষ্টি করা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এই দুর্যোগ আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগও যেমন মোকাবেলা করতে হয়, তেমনি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়। কারো নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, কারো আমি গিবত গাইতে চাই না। কারো কথা বলতে চাই না। তবে যারা দেশের উন্নয়ন চোখে দেখেন না, চোখ থাকতেও যারা অন্ধ, যারা দেশকে উন্নয়নের পথ থেকে তুলে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চান, দেশবাসী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিজ্ঞান প্রযুক্তির জ্ঞান নিয়ে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম দেশকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নতুন প্রজন্মকে তথ্য প্রযুক্তিতে সক্ষম করে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সরকার দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির লাগসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য করা। কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, বেতার, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মত মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মোবাইল ফোনের মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দিয়েছি বলেই এখন দেশের সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের সুবিধা পাচ্ছে। অল্পদামে তাদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে যোগাযোগ এই মাধ্যমটি। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। জমিতে ফসল ফলাতে কৃষকের সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া সম্ভব হচ্ছে। দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো এখন ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ করে নিয়ে নিচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি কমাতে ইতিমধ্যে সরকারি অফিসে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হয়েছে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনতে শিগগিরই সব মন্ত্রণালয়ে ই-টেন্ডার কার্যক্রম চালু করা হবে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার তথ্য সেবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখানে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের আয়কে আইটি সেক্টরের আয় ছাড়িয়ে যাবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশে থ্রি-জি সেবা দেয়া হয়েছে। এবার আমরা ফোর-জি আনবো। গত এক বছরে ১৮ হাজার ছেলে-মেয়েকে আমরা আইটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আগামীতে ৫০ হাজার ছেলে-মেয়েকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে তারা আউট সোর্সিংয়ে আরও বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশ আউট সোর্সিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আমরা এ সেক্টরে আরও এগিয়ে যাবো। আর এসবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর পদক্ষেপে আইটি সেক্টরসহ দেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২৫ হাজার ৫শ’ কম্পিউটার ল্যাব সারাদেশের স্কুলগুলোতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েব পোর্টাল করেছি। যেখান থেকে যেকোনো তথ্য সেবা আমরা দিতে সক্ষম। আমরা আগামী ৫ বছরে কোথায় যাবো কেউ কল্পনাই করতে পারে না। আইটি সেক্টরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আরও এগিয়ে যাবো এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন। মেলায় ২৫টি দেশের ৮৫ জন বিদেশি বক্তা ২৪টি সেমিনার, নয়টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেবেন।