১৩ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিম বাংলার সীমান্ত শহর বনগাঁ লোকসভার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মানববিহীন উড়োযান ‘ড্রোন’ ব্যবহার করবে ভারত সরকারের নির্বাচন কমিশন। বনগাঁ লোকসভা ও কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনের ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্য কেন্দ্র থেকে ১০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী নির্বাচনী এলাকায় এসে পৌঁছেছে। নির্বাচনের কারণে বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ রয়েছে সতর্ক অবস্থায়।
ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে আনন্দ বাজার পত্রিকা জানায়, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে, তা বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে মানববিহীন উড়োযান ড্রোনের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই সূচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কৃষ্ণগঞ্জে। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের ১ হাজার ৮শত ৬৩ বুথে পাহারায় থাকবেন ৮ হাজার আর কৃষ্ণগঞ্জের ২৮৮টি বুথের জন্য থাকবেন দুই হাজার জওয়ান।
৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসব এলাকায় রোডমার্চ শুরু করে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বনগাঁ লোকসভা আসনের অন্তত পাঁচটি স্পর্শকাতর কেন্দ্রে ভোট প্রক্রিয়ায় নজরে রাখবে মানববিহীন উড়োযান বা ড্রোন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার ভারতে প্রথম বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আকাশ পথে নজরদারির সঙ্গে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে থাকবে ৮০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী। মূলত তাদের হাতেই থাকবে ভোটকেন্দ্র এবং বাইরের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব। আকাশ পথে পর্যবেক্ষণের সময় ড্রোনে লাগানো থাকবে ভিডিও ক্যামেরা। ভোটের দিন যেখান থেকে সহিংসতার খবর আসবে সেখানকার আকাশে কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠিয়ে দেয়া হবে ড্রোন। ড্রোন ক্যামেরায় ছবি তুলে তৎক্ষণিক কন্ট্রোল রুমে পাঠাবে। সেই ছবির ভিত্তিতে পর্যবেক্ষক বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অফিসাররা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি বনগাঁর আকাশে ৪-৫টি ড্রোন ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া ব্যবহার করা হবে মোবাইল ক্যামেরা, ওয়েব ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরাসহ থাকবে অবজারভেশন টিম।
এদিকে, বনগাঁ লোকসভা আসনের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে বেড়েছে বিএসএফের নজরদারি। বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তের ইছামতি নদীতে চলছে স্পিডবোটে বিএসএফের টহল। সীমান্ত এলাকার চোরাই ঘাটগুলো একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে সে জন্য সীমান্ত এলাকায় সূর্যাস্তের পর মানুষ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ জারি করেছে বিএসএফ। সীমান্ত চৌকি ও টাওয়ারে অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পুটখালী ক্যাম্পের সুবেদার শামছুর রহমান জানান, অবৈধভাবে যাতে কেউ সীমান্ত পারাপার করতে না পারে সে জন্য বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত আছে। ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে শুনেছি। সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সীমান্তে বিজিবিও সতর্কাবস্থায় আছে।