চলমান দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে ব্যবসার ক্ষতি তুলে ধরে সরকারের কাছে সব ধরনের করের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার (ডিসিসিআই)। মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া এবং বন্দরের সব ধরনের চার্জের ক্ষেত্রেও একই হারে মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে করারোপ না করারও দাবি জানানো হয়।
বৃহত্তর রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে ডিসিসিআইর একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি হোসেন খালেদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে করারোপ না করার বিষয়ে ইতিবাচক মত দেন। সেই সঙ্গে দ্রুত চলমান সহিংস পরিস্থিতির সমাপ্ত হয়া ও স্বাভাবিক ব্যবসায়ের পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তাদের আস্বস্ত করেন। ব্যবসায়ীদের সত্পথে ব্যবসা পরিচালনার তাগিদ দিয়ে এ ক্ষেত্রে এনবিআর সব ধরনের সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, করদাতাদের সচেতন করতে আগামীতে দেশের সব উপজেলায় আয়কর মেলার আয়োজন করবে।
হোসেন খালেদ তার বক্তব্যে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। অবরোধের ৩৬ দিনে আনুমানিক সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ বাড়তি রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীদের উপর নতুন করে করের বোঝা যেন না চাপানো হয়।
এ সময় বলা হয়, হরতাল-অবরোধের কারণে বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত বন্দর চার্জ বহন করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্দরের সব ধরনের চার্জের অর্ধেক মওকুফ করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া, নতুন ভ্যাট আইন ব্যবসাবান্ধব করা, চেম্বার ও ট্রেড বডির ওপর থেকে বিদ্যমান কর প্রত্যাহার করা, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, অটোমোবাইল শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ও কর রেয়াতের সুবিধা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পাট শিল্পের শুল্ক প্রত্যার্পণ জটিলতা পরিহার করা, মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট করহার বিদ্যমান সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা, শেয়ারবাজারে লেনদেনের ওপর বিদ্যমান অগ্রিম কর অর্ধেকে নামিয়ে আনা, ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা পৌনে তিন লাখ টাকা করা, সিএসআর (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) খাতে ব্যয়কে করমুক্ত ঘোষণা দেয়া, নিল ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া, সব ধরনের শিক্ষাকে আয়করমুক্ত করা, ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা, ট্রাভেল এজেন্টদের আয়কর কমিয়ে আনার দাবিও জানানো হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর হোসেন, পারভেজ ইকবাল ছাড়াও ডিসিসিআইর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।