এ বছরেই শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। চলতি বছরের শেষভাগ থেকে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পুলিশ, আনসার এবং র্যাবের টহল ও নিরাপত্তা নজরদারি থাকবে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সর্বনিম্ন স্তরের এই প্রশাসনিক ক্ষমতা বদলের ভোট কার্যক্রমে।
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, মামলাসহ সব ধরনের জটিলতা দূর করে এ নির্বাচন দেয়া হবে। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হয়ে জুনের মধ্যে সম্পন্ন হয় ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ বলা আছে, পরিষদ গঠনের জন্য কোন সাধারণ নির্বাচন ঐ পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের (৬ মাস পূর্বে) মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। অতএব ২০১১ সালের মার্চে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলি এ বছরের অক্টোবরের পর নির্বাচন উপযোগী হবে। আর বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে করা যাবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করেছে কমিশন। চলতি বছরের শেষ দিকে দেশের অনেক ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছর কার্যকাল শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালের প্রথমভাগেই দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। যে কারণে এখনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে কমিশন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে কমিশনের। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নির্বাচন করার যথাযথ প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। যে ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আগে শেষ হবে সেই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন যথা নিয়মে আগে হবে।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে কিংবা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ন্যূনতম পরিবেশ থাকলে কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে। ইউপি নির্বাচনে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কোন ধরনের নাশকতা কিংবা অরাজক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাবরের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা কিছু করা দরকার তার সম্ভাব্য সব কিছুই করবে নির্বাচন কমিশন।