ব্যবহারিকসহ এসএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা ১৬ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল; কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে এই পরীক্ষা শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদি এসএসসি ও সমমানের সকল পরীক্ষা সূচি অনুযায়ী শেষ করা না যায়, তবে এইচএসসির পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু করা কঠিন হবে।
আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবার কথা। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থীর। প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবার কথা ছিল; কিন্তু বিএনপি ও শরীক দলের হরতালের কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। অবরোধ ও হরতালের ২, ৪, ৮ ও ১০ ফেব্রুয়ারি এই চারদিনের পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্থগিত পরীক্ষার সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আজ শুক্রবার ৮ ফেব্রুয়ারির স্থগিত হওয়া এবং কাল শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারির স্থগিত হওয়া পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অভিভাবকরা বলছেন, এভাবে বার বার পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা হয়তো সহিংসতার আশঙ্কা থেকে বেঁচে গেল; কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত্ কোথায়। যদি টানা হরতাল থাকে তাহলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও শঙ্কায় থাকবে।
ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫, ১৮, ২২, ২৪, ২৬ তারিখ- এই পাঁচদিনে এবং মার্চ মাসের ১, ৩, ৪, ৮, ১০, ১১ তারিখগুলোতে তত্ত্বীয় পরীক্ষা এবং ১২ থেকে ১৬ মার্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যবহারিক বাদে প্রতি সপ্তাহে তিনটি পরীক্ষা রয়েছে। যদি শুক্র ও শনিবার হরতাল মুক্ত থাকে তবে নির্দিষ্ট সময়ে না হলেও মার্চের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা যাবে; কিন্তু টানা কঠোর কর্মসূচি থাকলে মার্চের মধ্যে কোনক্রমেই পরীক্ষা শেষ করা যাবে না।
গতকাল এক বিবৃতিতে অবরোধের পাশাপাশি ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান অবরোধের সঙ্গে ‘সর্বাত্মক’ হরতালসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এ কারণেই পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেষ্টা রয়েছে যথাসময়ে পরীক্ষা শেষ করার। এ কারণে আমরা শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নিচ্ছি। পাশাপাশি এপ্রিলে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা আয়োজনেরও সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশা করছি, যথাসময়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা যাবে। বর্তমানে শুক্র ও শনিবার হরতাল না থাকায় এই সময়ে পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছে। যদি শুক্র ও শনিবার হরতাল থাকে তবেতো ভিন্ন কথা।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, যেভাবে হরতাল ও অবরোধ চলছে তাতে যথাসময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যাবে। আমাদেরও প্রস্তুতি রয়েছে। তবে ঢাকা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, অবরোধের পাশাপাশি হরতাল বা টানা কঠোর কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত্। হরতাল থাকলে পরীক্ষা হবে না। অন্য টানা কর্মসূচি কী ধরনের তা বিবেচনায় এনে তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
রাজধানী মিরপুরের এক অভিভাবক বলেন, হরতাল দিলে সরকার পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শঙ্কামুক্ত রাখছে; কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দায় কে নেবে! একে একে পরীক্ষা পিছিয়ে যদি সপ্তাহে টানা ৭টি বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হয়, তা হলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে উত্কণ্ঠার মধ্যে পড়বে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে। পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হবে। হরতাল ডেকে ও পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়ে কোন সমাধান হবে না বলে মনে করেন এই অভিভাবক। গুলশানের একটি স্কুল থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে তাবাসসুম। সে এই প্রতিবেদককে জানান, এখনই পরীক্ষার প্রস্ততি নিতে সমস্যা হচ্ছে। প্রাইভেট/কোচিংয়ে যাচ্ছি অনিয়মিতভাবে। ফলে প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ছি। আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই। আমিনুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় সন্তানের পড়ায় মন বসছে না। এখন কোন বিষয়ের প্রস্তুতি নেবে তা হরতাল দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। হরতালের খবর জানার জন্য টিভি খুলে বসে আছে।