উদ্যোগ মানুন, নইলে বলুন বিকল্প কী: ড. শামসুল হুদা

 
 
 
হরতাল, অবরোধ ও চলমান সহিংসতা বন্ধের সমান্তরালে সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নেয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা। শুক্রবার ‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের পক্ষে’ জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানিয়ে বিরোধে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘চলমান সংকট নিরসনে নাগরিকদের উদ্যোগ মেনে নিন, নয় তো আপনারাই বলুন বিকল্প রাস্তা কী?’
‘উদ্বিগ্ন নাগরিকদের’ এ আহ্বান বাস্তবায়নে এবং চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য তৈরির লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা  হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম শামসুল হুদা। সদস্যরা হলেন— তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, এম হাফিজউদ্দিন খান, সিএম শফি সামি, রাশেদা কে চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, প্রাক্তন আইজিপি এ এস এম শাহজাহান, প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী, কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, আইনজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিক, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, গবেষক আহসান মঞ্জুর এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলাসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটির কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে কমিটির কোনো নাম দেয়া হয়নি।
শামসুল হুদা বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং সংলাপ সমান্তরালে চলা উচিত। এটা না হলে জনমনে আস্থা তৈরি হবে না। যেকোনো রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে সংলাপের বিকল্প নেই। তাই আমরা চলমান এ সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নিতে সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশেষভাবে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
কমিটির কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ কমিটির মাধ্যমে জনসাধারণকে জানান দিতে চাই—আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। এ ছাড়া, এ কমিটি বর্তমান প্রেক্ষাপট প্রত্যক্ষ করবে এবং জনগণের সামনে তা তুলে ধরবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা চিন্তা করব। অন্যান্য পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।
সংকট সমাধানে আপনারা দুই দলের কাছে যাবেন কিনা, জানতে চাইলে সাবেক এই সিইসি বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় কারো কাছে যাব না। তবে কেউ ডাকলে তখন অবশ্যই যাব।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে অনেক আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু এমন সহিংসতা ছিল না। দুই দলকেই সহিংসতা বন্ধ এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে পরিবেশ শান্ত না হলে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই আগে সহিংসতা বন্ধ করা উচিত।’ তার মতে, ‘সমস্যা সমাধানে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কখনোই শুভকর হবে না।’
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে শামসুল হুদা বলেন, ‘কেউ চাইলে স্থায়ী সমাধানে আমাদের কমিটির কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারে।’