‌'জাতীয় সংলাপের বিকল্প নেই'

সন্ত্রাস-সহিংসতা বন্ধ এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য জাতীয় সংলাপের বিকল্প নেই বলে ফের মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, এর জন্য চাপ এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সরকার সংলাপে বাধ্য হয়। এ সংলাপের দাবিতে শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর শিখা চিরন্তনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।
শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনো নির্বাচনই নয়। দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য নতুন নির্বাচন দরকার। এখন দেশজুড়ে যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, দুই দলই দায়ী। দেশ এখন গভীর সংকটে। সবকিছু স্বাভাবিক বলে ধোকা দেয়া হচ্ছে। সংলাপই এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়। এজন্য চাপ এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সরকার সংলাপে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, বার্ন ইউনিট দেশের একমাত্র সমস্যা নয়। অন্যসব আড়াল করে শুধু বার্ন ইউনিট দেখানো হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির সংস্কার ও নতুন একটি নির্বাচন ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। তাই সংলাপে বসেই ভবিষ্যত রাজনীতি ও নির্বাচনের উপায় র্নিধারণ করতে হবে। প্রতি ৫ বছর পরপর সমস্যা তৈরির চেয়ে এবার একবারে স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। এ জন্য যদি আরো ছয়মাস-এক বছর সময় লাগেতো লাগুক।
ডাকসু ও চাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই পেট্রোলবোমা ছুড়ছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ পেট্রোলবোমাসহ আটক করেছে। কিন্তু পরে তাদের বিচার হয়নি। এ থেকে বুঝা যায়, শুধু বিরোধীপক্ষ নয় সরকারের কোন পক্ষও সহিংসতায় সরাসরি জড়িত। দুই দল যদি মীমাংসায় আসতে না পারে তখন অন্য হস্তক্ষেপ আসবেই। সেটি জাতিসংঘ কিংবা সেনাবাহিনী অথবা অন্য কেউ হতে পারে। তবে এ অনড় অবস্থা অনির্দিষ্টকাল থাকবে না। তারা হয় নিজেরা নড়বেন, নয়তো বাইরে থেকে নড়বেন।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, অনেকে আমাদেরকে এক-এগারোর কুশীলব বলেন। অথচ এক-এগারোর সুবিধাভোগী কারা? অথচ তারাই এখন আরেকটি এক-এগারোর পথ তৈরি করছেন। রাজনীতিতে আমি সবসময়ই সংস্কারের পক্ষে। তবে সেটি শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নয়।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন ট্রিগার হ্যাপি হয়ে পড়েছে। যাকে খুশি তাকে গুলি করছে। দেশজুড়ে সন্ত্রাস দমনের নামে গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। এসবের শিকার নিরীহ লোক। তারা বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ধরছে। আবার আওয়ামী লীগের নেতাদের কথায় ও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ‘সন্ত্রাস সহিংসতা চাই না, শান্তি ও গণতন্ত্র চাই, জাতীয় সংলাপের বিকল্প নাই’- এ স্লোগানকে ধারণ করে শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে নাগরিক ঐক্য। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।