মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫০ সেনা নিহত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে চীন সীমান্তের কাছে কোকাং বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামপ্রতিক সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য নিহত হয়েছে। কোকাং বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি চুক্তি করার পদক্ষেপের মধ্যেই এধরনের ঘটনা ঘটলো। গত দুই বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। এর আগে মঙ্গলবার চীন জানায়, সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইউনানে পালিয়ে আসছে। খবর বিবিসি’র।

গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, গত সোমবার থেকে শান রাজ্যের কোকাং অঞ্চলে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। জাতিগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিয়ানমারের সৈন্যদের গত কয়েক দিনের এ সংঘর্ষে অর্ধশত সৈন্য নিহত হয়। পত্রিকাটি এর ইংরেজি সংস্করণে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সংঘর্ষে ৫০ সৈন্য নিহত ও ৭৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও এতে সৈন্যদের ৫টি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কংইয়ান এলাকার কোকাং বিদ্রোহীদের ২০০ সদস্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তারা সৈন্যদের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করে। সেনাবাহিনীও বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে পাঁচটি বিমান হামলা চালায়।
এদিকে সরকার যখন একটি শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে এ সংঘাত একটি অশুভ সংকেত হিসাবে দেখা দিয়েছে। প্রায় ছয় বছর শান্ত থাকার পর অঞ্চলটিতে আবার নতুন করে এই সংঘর্ষ শুরু হলো। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ বিলম্বিত চুক্তিটিতে স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিলো।

চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মায়ানমারের সীমান্তে কয়েক বছর আগের ঐ লড়াই চলাকালে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চীনে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় মায়ানমারের তত্কালীন সামরিক জান্তা শাসকের দীর্ঘদিনের মিত্র বেইজিং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।