গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ ছাত্র নিহত

 
 
গোপালগঞ্জ সদর ও কোটালীপাড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ও স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধরা ট্রাকে ও মোটর সাইকেলে আগুন দিয়ে তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
 
আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের কোটালীপাড়া উপজেলার হরিনাহাটী স্লুইচগেইটের পাশে ও গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ২টি ঘটে।
 
গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের কোটালীপাড়া উপজেলার হরিনাহাটীতে ট্রাক ও মোটর সইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র সৈকত খান ( ২৫) নিহত হয়। সৈকত খান কোটালীপাড়া উপজেলার মধুর নাগরা গ্রামের মৃত রেজাউল হক খানের ছেলে। সে কোটালীপাড়া শেখ লুত্ফর রহমান আদর্শ ডিগ্রি কলেজর এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র।
 
এ দিন দুপুরে শহরের হাসপাতালের সামনে মোটর সাইকেল চাপায় পশ্চিম গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র মাসুদ মিয়া (৮) নিহত হয়।
 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা  বরিশাল গামী সিমেন্ট ভর্তি একটি ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১৬-৬৯৩৯) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলার হরিনাহাটী স্লুইচগেইটের পাশে পৌছালে বিপরীত  দিক থেকে আসা একটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে  মোটরসাইকেল চালক কলেজ ছাত্র সৈকত খান ঘটনাস্থলে নিহত ও মোটর সাইকেলের আরোহী সবুজ ঘরামী আহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিতে অগ্নি সংযোগ করে  ট্রাক চালক সুমন মাঝি, চালকের সহকারী বেল্লাল সরদারকে করে পুলিশে সোপর্দ করে। গুরুতর আহত সবুজ ঘরামীকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
কোটালীপাড়া থানার ওসি আব্দুল লতিফ চালক ও চালকের সহকারীকে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পরপরই কোটালীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একাটি ইউটি ঘটনাস্থলে পৌছেই ১১ টার মধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলে। এতে ট্রাকের কিছু অংশ পুড়ে সামন্য ক্ষতি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে  লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এখন এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ওই সড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন মোল্লা দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুপুরে  মাসুদ ওই এলাকায় রাস্তা পার হতে গেলে একটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মোটরসাইকেল চালক অনিককে (২২) আটক করেছে পুলিশ।