প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে তার নিজের ও পুত্রের চুরির টাকা রক্ষা করতেই মানুষ পুড়িয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। উনি বিচারের সম্মুখীন হতে ভয় পান বলেই হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছেন। আর জামায়াত একাত্তরের মানবতা বিরোধীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে মানুষ হত্যা করছে। তবে যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তার কিভাবে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে যন্ত্রণা দিয়ে মানুষ হত্যা করে? তারা কি মানবতার দিকে একবারও ফিরে তাকাবে না? তারা কি প্রকৃত মুসলমান? ইসলাম তো আধুনিক, শান্তি ও প্রগতির ধর্ম। যারা আন্দোলনের নামে মানুষ খুন করছে সেই খুনিদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে আলেম-ওলেমা ও সুফীসহ সকলের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক সুফী সম্মেলন-২০১৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। দেশে এই প্রথম বারের মতো ‘সুফীবাদ বিশ্ব শান্তির একমাত্র পথ’ এই শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ) দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে। ভারত, জামার্নী, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি ইসলামিক চিন্তাবিদ এই সম্মেলনে অংশ দেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে, যে দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েক নেতা আসামি। বিএনপি-জামায়াত জোটের গত এক মাসের বেশি সময়ের অবরোধে গাড়িতে আগুন, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও হাতবোমার বিস্ফোরণে প্রায় এক শ’ নিরীহ মানুষের মৃত্য হয়েছে, যাদের অধিকাংশকেই আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। নাশকতায় প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। শত বাধা উপেক্ষা করে মানুষ ভোট দিয়েছে। গত এক বছরে মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে ছিলো। বিগত ৬ বছর আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষের মধ্যে যখন আস্থা, বিশ্বাস, স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে। ঠিক সেই সময় বিনা কারণে বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন যে তাণ্ডব হচ্ছে, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ মারছে, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তারা কি প্রকৃত মুসলমান? এসময় উপস্থিত সবাই একসাথে ‘না’ বলে ওঠেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নতি হচ্ছে ঠিক সেই সময় কেন এই তান্ডব? এই যে মানুষের কান্না, কষ্ট, মানুষের ব্যাথা-বেদনা তাদের মনে কি নাড়া দেয় না? এভাবে মানুষ পুড়িয়ে তারা কি অর্জন করছে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার উত্স। ফলে মানুষ হত্যাকারী, সাধারন নিরিহ মানুষকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ব ইজতেমার সময়ও অবরোধ প্রত্যাহার না করায় দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, কি দুর্ভাগ্য আমাদের! ইজতেমার সময়ও অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে। তারা হরতাল আর অবরোধের নামে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তাদের হাত থেকে আমাদের মসজিদও রেহাই পায় না। ইসলাম ধর্মের কোনো সম্মান তারা দেয় না। তারা শত শত কোরআন শরীফ আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। এ ধরনের কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আর নেই। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের নিজেদের ধর্মের লোকদেরকেও ছাড় দিচ্ছে না। এমনকি তারা মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর নির্দেশও মানে না। মুষ্ঠিমেয় লোকের জন্য পবিত্র ধর্ম ইসলামের অপমানজনক অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। মহান আল্লাহ তাদের সুমতি দিক। বিএনপি জোটের অপকর্মের বিচার ভার আলেম-মাশায়েখদের ওপর ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের যথাযথ প্রচার, প্রসার ও ধর্মকে যেন ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে সে বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, তাবলিগ জামায়াতের জন্য টঙ্গীতে বিশাল জমি দান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সকল ধর্মের মানুষের সহ-অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোগ করেন।
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (বিটিএফ) চেয়ারম্যান আলহাজ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিটিএফ’র সেক্রেটারি জেনারেল এম এ আওয়াল এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ তায়াবুল বাশার মাইজভান্ডারি প্রমুখ।