‘হরতাল-অবরোধের নামে তামাশা চলছে। মানুষের কাছে হরতাল এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে। কারণ, সবকিছু স্বাভাবিক, ঢাকাসহ সারা দেশে দোকান-পাট খোলা আছে, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।’ রবিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ সব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘২০১৩ সালেও নির্বাচন ঠেকানোর জন্য তারা (বিএনপি- জামায়াত) আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা করেছিল। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে পারেনি। এখন আবার জামায়াতকে রক্ষা করার জন্য সারা দেশে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তবে এ সব করে কিছুই হবে না। একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন হবেই। তাদের কোনো এজেন্ডাই বাস্তবায়ন হবে না। খুনি, বোমাবাজদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জোট যা করছে সেটি আন্দোলন নয়, সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি তত্পরতা। খালেদা জিয়ার তথাকথিত এ আন্দোলনের মধ্যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। পাকিস্তান এ আন্দোলনে পুরোপুরি সহায়তা দিচ্ছে। কারণ, তারা একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নিতে চায়।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কেউ আপস করেনি। আপস করলে বুশ-লাদেনের সঙ্গে এবং আমেরিকা আইএসের সঙ্গে সংলাপ করত।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের বিপক্ষে তিনি এ আন্দোলন ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তিনি সেটা পারবেন না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, এখন উনি (খালেদা) যেমন গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন, ঠিক সে কাজটি করতে চেয়েছিলেন নয়াপল্টনে।’
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।