আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে ২০ বছরের পুরানো তিনটি উড়োজাহাজ ক্রয়ের মাধ্যমে কোটি ডলার বিদেশে পাচার ও শেয়ারবাজার থেকে ৪১৫ কোটি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের সাবেক দুই পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্ব তিন সদস্যের টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
রবিবার যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তারা হলেন— ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক পরিচালক মো. শফিকুর রহমান ও খন্দকার মামুন আলী। এ ছাড়া, আজ আরো চার সাবেক পরিচালক মো. সানোয়ার মিয়া, মো. আজিজুর রহমান, তরুণ মিঞা ও রাজা মিঞাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও তারা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।
দুদক সূত্র জানিয়ে—আন্তর্জাতিক দর থেকে বেশি মূল্য দেখিয়ে উড়োজাহাজ ক্রয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও এমডির দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ২০ বছরের পুরনো উড়োজাহাজ কিনেছেন আন্তর্জাতিক দর থেকে অনেক বেশি দামে। উড়োজাহাজ কেনার নামে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি শেয়ারবাজার থেকে ৪১৫ কোটি টাকাও তুলে নিয়েছেন।
নিয়ম অনুসারে—প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ দরপত্র ছাড়াই শুধু প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের একক সিদ্ধান্তে উড়োজাহাজ কিনেছে।
দুদক সূত্র আরো জানিয়েছে—বিমান সংস্থাটি ২০ বছরের পুরনো উড়োজাহাজ কিনেছে আন্তর্জাতিক দর থেকে অনেক বেশি দামে। এ ছাড়া, একই সময় কেনা একই মডেলের উড়োজাহাজ তারা কিনেছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। যেমন এমডি-৮৩ মডেলের তিন জাহাজের মূল্য ধরা হয়েছে—যথাক্রমে ৭৬ লাখ ডলার, ৭৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ৮৮ লাখ ২৪ হাজার ৫৮০ ডলার। অন্য তিনটি মডেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
নীতিমালা প্রণয়ন না হলেও কোম্পানির প্রয়োজনে নয়টি উড়োজাহাজ কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে এমডি-৮৩ মডেলের তিনটি উড়োজাহাজ। এতে ব্যয় হয় দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮০ ডলার। দুইটি এয়ারবাস কেনা হয় দুই কোটি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ডলারে। দুটি এটিআর উড়োজাহাজ কেনা হয় এক কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ডলারে এবং ড্যাশ-৮ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ কেনা হয় এক কোটি এক লাখ ২০ হাজার ৭৯৬ ডলারে। এ সব উড়োজাহাজ জ্বালানি-সাশ্রয়ী নয়।