অনেক নাটকীয়তা, অনেক উত্থান-পতন, অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার নেতৃত্বে আরেকটি বিশ্বকাপ অভিযানে নেমে পড়বে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবে সামনে আসছে ‘কালো ঘোড়া’ আফগানিস্তান। মাশরাফি বলছেন, তারা সব পরীক্ষা, সব চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা শুধু এই প্রস্তুতিটা করে দেখানোর—
আপনারা তো কখনো আফগানিস্তানকে হারাতে পারেননি; এটা কী একটা চাপ?
মাশরাফি: আমরা তাদের সাথে একটিই ওয়ানডে খেলেছি। গত এশিয়া কাপে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ম্যাচে আমরা জিততে পারিনি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদেরকে হারিয়েছি আমরা। এবার পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপে তাদেরকে হারানোর পালা। যা করার এখানেই করতে হবে।
দুটি ওয়ার্ম আপ ম্যাচে হারের পর আপনি বলেছিলেন খেলোয়াড়রা তেমন সিরিয়াসভাবে ম্যাচগুলোকে নেয়নি। সিরিয়াসনেসটা কী ফিরে এসেছে?
মাশরাফি: আমি বলিনি যে কেউ ম্যাচ সিরিয়াসলি নেয়নি। আমি বলেছিলাম, অনেকে অনুশীলন ম্যাচটাকে অনুশীলন হিসেবেই চিন্তা করেছে। যার কারণে কিছুটা মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলনে কতোটা কষ্ট করেছে এবং কিভাবে উইকেটের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের আগের চার পাঁচ দিন আমরা কঠোর অনুশীলন করেছি। বিশেষ করে বোলাররা গত সপ্তাহে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ ১৫ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। এরও আগে থেকে তারা আইসিসির সদস্য দেশ। তারপরও এখন আপনাদের আফগানিস্তানের সাথে তুলনা করা হয়। এতে কি স্বস্তি বোধ করেন আপনারা?
মাশরাফি: তুলনা আসতেই পারে। যে কেউ তুলনা করে। আমরা এই তুলনাকে কিভাবে গ্রহণ করি, সেটাই আসল বিষয়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ধরে নিয়েছি। আফগানিস্তানও তাই। আমরা তাদেরকে সম্মান করি। কে আমাদের কিভাবে তুলনা করছে তা আমাদের জন্য ভাবনার বিষয় নয়।
বাংলাদেশ স্পিন-নির্ভর দল। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার এই দলে বেশি। এখানকার কন্ডিশন বিবেচনায় ঠিক কী ধরনের কম্বিনেশন বেছে নিচ্ছেন?
মাশরাফি: দেশে আমাদের স্পিনাররা দারুণ খেলে। ফলে তাদের উপর আমাদের নির্ভরতা বেশি। তবে আমাদের দলে কার্যকর পেসারও আছে। তবে তারা এখনো তরুণ। কিন্তু তারা সম্ভাবনাময় এবং আশা করছি তারা তাদের কাজটা করে দেখাবে। স্পিনাররাও এখানে ভালো করবে বলে বিশ্বাস করি। আমাদের স্পিনাররা বিশ্বের যে কোনো উইকেটে কার্যকর।