সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এসে ধাতস্থ হওয়ার আগেই এক বিদেশি সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন—আপনারা তো কখনো আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে পারেননি; এই ব্যাপারটা কী চাপে রেখেছে!
মাশরাফি প্রথম একটু অবাক হয়ে চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, ‘কখনো, মানে কী! আমরা তো আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচই খেলেছি মাত্র।’
শুনতে যেমনই শোনাক, বাস্তবতা হলো- ওই একটি ম্যাচের দুঃস্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আজ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। চার বছর ধরে অপেক্ষার পর সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ভেতর দিয়েই পর্দা উঠবে আজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপের।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা শহরের মানুকা ওভাল স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় যার যার প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। ম্যাচটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশ ও বিদেশের কয়েকটি স্যাটেলাইট চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করবে।
এশিয়া কাপের ইতিহাসটা বাদ দিলে আফগানিস্তান এমন কিছু সমীহ পাওয়ার মতো দল নয়। বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছে সেই ১৯৮৬ সাল থেকে, আফগানিস্তান শুরু করেছে এই ২০০৯ সালে। বাংলাদেশ এই নিয়ে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলছে; আর আফগানিস্তান এবারই প্রথম টিকিটটা পেয়েছে। বাংলাদেশ যেখানে বিশ্বের সব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে দফায় দফায় হারানোর কাজ অনেক আগেই শেষ করেছে; আফগানিস্তান টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে এ পর্যন্ত ম্যাচই খেলেছে মাত্র ১০টি।
তারপরও তরুণ আফগানিস্তানের ভরসা ওই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে পাওয়া জয়টা। আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আগামীকাল (বুধবার) বাংলাদেশই চাপে থাকবে। কারণ তারা জানে, গত বছর আমরা তাদের হারিয়েছি তাদেরই মাঠে। আশা করি, আমরা বাংলাদেশকে আবারো হারাব।’ এসব হুমকি-ধমকিতে অবশ্য কান দিচ্ছেন না মাশরাফি। তিনি বলছেন, ওই হারের হিসেব শোধও হয়ে গেছে, এখন সামনে তাকানোর পালা, ‘আমরা তাদের সাথে একটিই ওয়ানডে খেলেছি- গত এশিয়া কাপে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ম্যাচে আমরা জিততে পারিনি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদেরকে হারিয়েছি আমরা। এবার পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপে তাদেরকে হারানোর পালা। যা করার এখানেই করতে হবে।’
সামনে তাকানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঠিক কী একাদশ নিয়ে খেলবে, সেটা অনুমান করা অবশ্য একটু কঠিনই হয়েছে। দলের মূল খেলোয়াড়দের পাশাপাশি একাদশে নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান রুম্মন ও সৌম্য সরকারের মধ্যে ঠাঁই হবে দুই জনের। একটা বাড়তি পেস অপশন রাখতে চাইলে সৌম্য হয়তো জায়গা করে নেবেন। সে ক্ষেত্রে নাসির ও সাব্বিরের একজনকে ছিটকে যেতে হবে। একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে যে, এনামুল হক বিজয়ের জায়গায় সৌম্যকে ওপেনার হিসেবে নিয়ে সাব্বির-নাসির দুই জনকেই দলে রাখা। সাকিবের পাশে আরো দুই জন স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনা কম। তার মানে আরাফাত সানি ও তাইজুলের মধ্যে ডাক পাবেন এক জন। আর পেসার তিন জন মাশরাফি, রুবেল ও তাসকিনের খেলা একরকম নিশ্চিত।
পত্রপত্রিকাগুলো দাবি করছে- ক্যানবেরার উইকেট কিছুটা বাংলাদেশের মনমতো হতে পারে। উইকেটে প্রচুর রান আছে; এটা সত্যি। তবে পাশাপাশি ইনিংসের পরের দিকে স্পিনাররা একটু সহায়তা পেতে পারেন।