আন্দোলন থেকে ‘নিরস্ত’ করতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করার উদ্যোগ চলছে বলে বিএনপি মনে করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে একটি মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করছে। ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে ভাবার সময় নেই।’ আন্দোলন সফল করাই এখন মূল টার্গেট।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, যেখানে জাতীয় নির্বাচন চাচ্ছেন দেশের মানুষ, সেখানে এই মুহূর্তে ডিসিসি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, বিএনপির মূল টার্গেট হচ্ছে মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচন। এ দাবিতে আন্দোলন চলছে, হরতাল-অবরোধ চলছে। এটাকে সরকার পাশ কাটতে চাইলে তা সফল হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, ’আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার কৌশল হিসাবে সরকার সিটি নির্বাচনের কথা বলছে। এখন আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। সিটি নির্বাচন নয়, দেশে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে ভাবার সময় নেই। কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ফেরাতে পারবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘ঢাকা সিটির নির্বাচন সম্পর্কে বেগম জিয়া অবগত আছেন। এ বিষয়ে তিনি পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন।’ সেলিমা রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে যে কোন নির্বাচন জনগণ সফল হতে দেবে না।’ তিনি বলেন, এখন জাতীয় নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলবে। কোন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সরকার আন্দোলন থামাতে পারবে না।’
মহাসচিবের চিঠি নিয়ে মুখ
খুলছে না বিএনপি
সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আহ্বান জানিয়ে লেখা জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের চিঠি নিয়ে মুখ খুলছে না বিএনপি। তবে চিঠি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে অবস্থানকারী একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, সংলাপ চাচ্ছে বিএনপি। চিঠির গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। সরকারকেই চিঠির বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
অপর একটি সূত্র জানায়, এর আগে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহের ফোনের কথা প্রকাশ করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিলো বিএনপিকে। একারণে তারা বান কি মুনের চিঠি নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে চান না।
এদিকে সম্প্রতি সহিংসতা নিরসনে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের চিঠি, তার নির্দেশনায় দুই দলের সঙ্গে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর যোগাযোগকে বিএনপি তাদের কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ’জাতিসংঘের সংলাপের উদ্যোগ আমাদের আন্দোলনের ফসল।