‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই, গুলিবিদ্ধ যুবদল নেতা

যশোরের মনিরামপুরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার বেগারিতলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তারা নিরীহ ছিল বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরে পুলিশের   সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

যশোর অফিস জানায়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতরা হলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গোবিন্দকাঠি গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আবু সাঈদ (৩৬) ও মনিরামপুরের জয়পুর গ্রামের বাবর আলী মোল্লার ছেলে বজলুর রহমান (৩৮)। এসময় মনিরামপুর থানার এসআই তাসনিমসহ ৪ পুলিশ সদস্যও আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ানশুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, ৯টি হাতবোমা ও ১২টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে। নিহত আবু সাঈদ জয়পুর গ্রামের হাতেম আলীর মেয়ে জামাই বলে জানা গেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা খবিরের বরাত দিয়ে মনিরামপুর সংবাদদাতা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ জয়পুর গ্রাম থেকে আবু সাঈদ ও বজলুর রহমানকে আটক করে। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নাশকতা পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন ভোরে উপজেলার বেগারিতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় তাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে ওই দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরে পুলিশ নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে মনিরামপুর থানায় নিয়ে যায়। নিহত দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে জয়পুর গ্রামে নির্বাচন-পূর্ব তাণ্ডব, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত অর্ধডজন মামলা রয়েছে। তারা কখনও বিএনপি, কখনও জামায়াতের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতেন বলে মনিরামপুর থানার ওসি জানান।
তবে নিহত দুজন নিরীহ প্রকৃতির ছেলে ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করে বলা হয়েছে, আবু সাঈদ ও বজলুর রহমান মঙ্গলবার বিকালে জয়পুর বাজারে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করেছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পালেরহাটের ঈদগাহ এলাকায় পুলিশের গুলিতে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম জসিম আহত হয়েছেন। পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।
জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. নাসিম মিয়া জানান, জসিম নাশকতার মামলার আসামি। রাতে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এসময় পালাতে গিয়ে জসিমের পায়ে গুলি লাগে। এছাড়া কনস্টেবল বাহার উদ্দিন, নাজমুল হাসান ও মাইন উদ্দিন আহত হন।
তবে চিকিত্সাধীন যুবদল নেতা জসিম জানান, রাত ২টার দিকে সাদা পোশাক পরা কিছু লোক তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে পালেরহাটের ঈদগাহ এলাকায় এনে তার পায়ে গুলি করে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা বা কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।

শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ :রাজশাহী অফিস জানায়, পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছাত্র শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার জনি ইসলাম (২০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর তেরোখাদিয়া ডাবতলায় এই ঘটনা ঘটে। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত জনি নগরীর বিনোদপুরের জনৈক রফিকুল ইসলাম দুলালের ছেলে ও স্থানীয় ইসলামিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার নেতৃত্বেই জেলায় বড় বড় হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটে বলে সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।