ঢাকার দুই (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৮ জানুয়ারি দুই ডিসিসি’র সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেটটি বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। তবে গেজেটের প্রিন্ট কপি কমিশনে পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, দুই ডিসিসির নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে বললে কমিশন কার্যক্রম শুরু করবে। জেনেছি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনে পাঠানো হয়নি। বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করে গত ২৮ জানুয়ারি ওই গেজেট প্রকাশ হয়েছে। বিজি প্রেসের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেছেন, কয়েকদিন আগেই গেজেট ছাপানো হয়ে গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছ থেকে গেজেট না পেয়ে কমিশন বিজি প্রেসের ওয়েবসাইট থেকে তা সংগ্রহ করেছে। যেভাবে গেজেটটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে ভোটার তালিকা বিন্যাস করতে সমস্যা হবে না। কোন ভোটার এলাকা ভাঙ্গা হয়নি। বড়জোড় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে কমিশনের। তবে দুই ডিসিসি নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কমিশনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত।
সূত্র আরো জানায়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সরকারের নির্দেশনা ছাড়া দুই ডিসিসি’র নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। অন্য সিটি করপোরেশনের মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হলে এই নির্বাচনের জন্য সরকারের নির্দেশনারও প্রয়োজন পড়ত না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের নির্দেশনা ছাড়াই তফসিল ঘোষণা করতে সমস্যা নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত বলতে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকাশিত গেজেটটি কমিশনে পাঠানো মানেই সরকারের নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত। কারণ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন স্বানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে আয়োজন করে থাকে কমিশন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।