মাত্র ১২.২ ওভারেই ইংল্যান্ডের বাধা টপকে গেলো নিউজিল্যান্ড। কিউইরা আর তিন বল আগে জিতলেই লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেতো বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটের বড় জয় পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ও টিম সাউদি।
প্রায় এক যুগ আগে ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ১২ ওভারেই জয় তুলে নিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার সেই তালিকা থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে ইংল্যান্ডকে বসানোর কথা ছিলো নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু শেষ ১২ রান করতে তারা খেলে ফেলে তিন ওভার দুই বল। যদিও দ্রুত হারার শীর্ষ দশে এখন বাংলাদেশের সঙ্গী হয়ে গেলো ইংল্যান্ড। কলঙ্কের পরাজয়ে উভয়ে তিন বার করে নিজেদের নাম লিখিয়েছে।
২৫ বলে ৭৭ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন ম্যাককুলাম। ২৫ বলের মধ্যে ৭ বার বল বাতাসে ভাসিয়ে এবং ৮ বার মাটি কামড়ে সীমানা পার করেন তিনি।
‘ক্ষুধার্ত’ সাউদির জন্য দ্রুত খেলা শেষ করে লাঞ্চে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই হয়তো ব্যাট করতে নেমেছিলেন ম্যাককুলাম। কিন্তু দলীয় ১০৭ রানের মাথায় আউট হয়ে গেলে ৯ ওভারের মাথায় আম্পায়ার লাঞ্চের বিরতি টানেন। ৯ ওভারের খেলা শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিলো এক উইকেটে ১১২। মাত্র ১২ রানের জন্য অপেক্ষা করতে পারলেন না ‘বে-রসিক’ আম্পায়ার।
বিরতি থেকে ফিরে গাপটিলের উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ডকে আর কোন লজ্জায় হয়তো ডুবাতে চায়নি কিউইরা। ১২ ওভারের আগে হারাতে পারলেই সবচেয়ে কম ওভারে পরাজয়ের গ্লানি সইতে হতো ইংল্যান্ডকে। একটু হলেও খুশি হতো বাংলাদেশ।
এর আগে টিম সাউদির বিধ্বংসী বোলিংয়ের কাছে রীতিমতো আত্মসমর্পণ করে ইংলিশরা। মাত্র ১২৩ রানেই অল আউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ইয়ান বেল, মঈন আলী, জেমস টেইলর, জস বাটলার, ক্রিস ওয়াকস, স্টুয়ার্ট ব্রড, স্টিভেন ফিন এরা সবাই সাউদির শিকার। বিশ^কাপে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সেরা বোলিং ফিগারটিও এখন তার দখলে। ৯ ওভারে মাত্র ৩৩ রানে নিয়েছেন এই সাত উইকেট। প্রথম ইনিংসের খেলা শেষে সাউদির দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার উত্তর দেয়াকে এক সময় মনে হচ্ছিলো, তিনি হয়তো মনে মনে বলছিলেন, আরে রাখো, সামনে ম্যাককুলাম আছে। IMG0
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ৩২ বছরের ইতিহাস বদলে বিশ^কাপে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো ইংলিশদের। ৩২ বছরের মধ্যে বিশ^কাপে নিউজিল্যান্ডকে হারানো হয়নি ইংল্যান্ডের। আর এই পরাজয় তো রীতিমতো দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে ইংলিশদের জন্য।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে একাই লড়াই করছেন জো রুট। ৭০ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকলেও কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারেনি। অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও জো রুটের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুরু ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও সাউদির দ্বিতীয় স্পেলে বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১০৪/৩ থেকে ১২৩ এ অল আউট হয় ইংল্যান্ড। ৪১ বলে ১৭ রান করে ভেটরির বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মরগান। ইয়ান বেল ১৭ বলে ৮ রান এবং মঈন আলী ১৫ বলে ২০ রান করে আউট হন।
এবারের বিশ্বকাপ আসরের ৯ম ম্যাচ এটি। ওয়েলিংটনের ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগান। দিবা-রাত্রির এই ম্যাচটি পুল এ’র হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম।