আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসা ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁয়ে বৈঠক হয়েছে। ‘বৈঠকী বাংলা’ নামের এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে ঢাকায় এক আলোচনায় অংশ নেন মমতা। এ সময় তিনি ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হবে’ উল্লেখ করে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে ‘আস্থা রাখার’ আহ্বান জানান।
অলোচনাকালে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসানে মমতার এই সফর ভূমিকা রাখবে’’
নাট্যবক্তিত্ব আলী জাকের বলেন, ‘আপনি (মমতা) রাজনৈতিক মতপার্থক্য ঘোঁচানোর চেষ্টা করবেন, আপনি সেতু হিসাবে কাজ করবেন।’
আলোচনার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘কোনো বাধা থাকবে না। মনের বাঁধন কখনো আটকে রাখা যায় না। মনের দরজাটা খুলে দিতে হবে।’
আলোচনাকালে মমতা বলেন, ‘আমার দিক থেকে এলবিএর (স্থল সীমান্ত চুক্তি) প্রবলেম সলভ করে দিয়েছি। তিস্তায়ও আস্থা রাখুন। আমাদের প্রবলেম আছে। আমি হাসিনাদির সাথে আলোচনা করব। আমাদের ওপর ছেড়ে দিন। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ছাড়াও মমতার সফরসঙ্গী হিসাবে ঢাকায় আসা চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, চলচ্চিত্র তারকা প্রসেনজিত্ চক্রবর্তী, তৃণমূলের এমপি অভিনেতা দীপক অধিকারী দেব এবং কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতার পাশে ছিলেন। এ সময় অতিথিদের সারিতে ছিলেন তৃণমূলের এমপি অভিনেত্রী মুনমুন সেন, অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতি অরিন্দম কাজীর স্ত্রী কল্যাণ কাজী, কবি সুবোধ সরকার, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী চলচ্চিত্র পরিচালক ব্রাত্য বসু প্রমুখ। বাংলাদেশের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ররীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ।