নাশকতা প্রতিরোধের অঙ্গীকার

লাখো মানুষের কণ্ঠে ছিল একাত্তরের পরাজিত শত্রু ও তাদের দোসরদের সন্ত্রাস, নাশকতা-সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার শপথ। তাদের হাতে ছিল অবরোধ-হরতালের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৃশংস ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন ভয়াল-বীভত্স ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। চোখে-মুখে ছিল রাজনীতির নামে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঘৃণা। গতকাল শুক্রবার বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশবিরোধী চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, পেট্রোল বোমা, চোরাগোপ্তা বোমা হামলা, জঙ্গি নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আহূত গণমিছিলে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। বিকাল ৪টা থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও শান্তির পক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি ঘিরে দেশজুড়ে এক গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়।

রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ গণমিছিল কর্মসূচিতে ১৪ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এক নম্বর গেটের সামনে থেকে গণমিছিলটি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে লাখো মানুষ সহিংসতা প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ করেন। শপথ বাক্য পাঠ করান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গণমিছিলপূর্ব বিশাল সমাবেশে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
বিকাল ৪টায় গণমিছিল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ নাসিম। সেখান থেকে গণমিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে মত্স্য ভবন হয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে পৌঁছায়। বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে শিখা চিরন্তনের সামনে মুষ্টিবদ্ধ ডান হাত সামনে তুলে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি টানেন মোহাম্মদ নাসিম। মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে সমস্বরে সকলে উচ্চধ্বনি তোলে, ‘আমরা শপথ করছি যে, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যতদিন পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে না পারবো ততদিন এ লড়াই-সংগ্রাম চলতেই থাকবে।’ শপথ গ্রহণের আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও লক্ষ লক্ষ শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। শপথ বাক্য বাস্তবায়নে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে আগামী ৮, ৯ ও ১০ মার্চ সারাদেশে ১৪ দলের উদ্যোগে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন মোহাম্মদ নাসিম। কেন্দ্রীয়ভাবে উত্তরবঙ্গের সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুরে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে।
গণমিছিলকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর থেকেই গোটা রাজধানী যেন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। ঢাকা মহানগরীর প্রায় একশ’টি ওয়ার্ড ও সব থানা থেকে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অজস  মিছিল নির্দিষ্ট করা স্থান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এক নম্বর গেটের সামনে গিয়ে বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধার অংশগ্রহণে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক বিভিন্ন দলের সহযোগী ও সমমনা সংগঠনগুলোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-নারী সংগঠনগুলোর নেতারাও গণমিছিলে অংশ নেন। জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে গণমিছিলে অংশ নেন জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, আবু সাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, যুগ্ম মহাসচিব জামিলুল হক বকুল, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, ছাত্র-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, যুগ্ম সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ ওকাল, যুব সংহতির সভাপতি এম এ কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।  
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এক নম্বর গেটের সামনে ট্রাকের উপর স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে গণমিছিল পূর্ব বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ন্যাপের এনামুল হক, সাম্যবাদী দলের এম এ গনি প্রমুখ। ঢাকা মহানগর ১৪ দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
খুনির সাথে নয় নাসিম
গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৯ সালের একদিন আগেও নির্বাচন হবে না। একই সাথে খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। নির্বাচনের আগে সংলাপ হবে নির্বাচন কমিশনের সাথে, কোন খুনির সাথে নয়।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া এখন জঙ্গির নেত্রী। আপনি এখন মানুষের উপর বোমা মারেন। মানুষকে হত্যা করেন। জঙ্গি নেত্রী হিসেবে, বাংলার মাটিতে আপনার বিচার হতেই হবে।
বিএনপি জোটকে গণতন্ত্র-জনগণ-মানবতা ও ইসলামের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। তবে কোন ধরনায় কাজ হবে না।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজনীতির মাঠে পরাজিত হয়ে বিএনপি এখন সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা কঠিন সময়ে কঠিন শত্রু মোকাবেলা করছি। এই শত্রু হচ্ছে জঙ্গিবাদী এবং আগুন সন্ত্রাসী। আর এদের নেত্রী হচ্ছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। তাদের কাছে গণতন্ত্র নিরাপদ নয়।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, দেশে শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করছে ১৪ দল। আর এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সহিংসতা ও নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি জোট। তবে জনগণ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান প্রমুখ।