ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া যানজট দ্বিতীয় দিনও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লার কোরপাই মিল গেইট থেকে দাউদকান্দির শহীদনগর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট চলছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও হাইওয়ে পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার ২০ দলীয় জোটের হরতাল না থাকায় অবরোধ উপেক্ষা করে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেট ও গণপরিবহন এক যোগে চলাচল করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপও বাড়তে থাকে। তবে মহাসড়কের ৯৭ কিলোমিটার কুমিল্লা অংশের বেশির ভাগ স্থানে ফোর লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় এক লেনেই চলছে হাজার হাজার যানবাহন।
অপরদিকে মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার এলাকার ৫শ গজের মধ্যে দুইটি ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য প্রায় ৭-৮ গজ পুরাতন সড়ক থেকে নতুন সড়কে যাতায়াতের লক্ষে দুইটি ক্রসিং করায় স্বাভাবিক ভাবে ওই ৭-৮ গজ এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে।
দাউদান্দির গৌরীপুর বাজার এলাকায় একটি ক্রসিং একই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতি সম্পন্ন প্রতিটি গাড়িই ওইসব এলাকায় গতি কমিয়ে ২০-২৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হচ্ছে। যার ফলে ওইসব এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে গন্তব্যে আগে যাওয়ার মনোভাবে বেপোরোয়া হয়ে গাড়ি চালানোর কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
এদিকে শনিবারও হরতাল না থাকায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল আরো বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার নিমসার থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকার যানজট সারা রাতেও নিরসন না হওয়ায় এবং শনিবার ভোরে নিমসার কাঁচা বাজারের কারণে যানজট তীব্র হতে শুরু করে।
অবরোধ উপেক্ষা করে চালক ও যাত্রীরা রাস্তায় নামলেও দুই দিনের যানজটে যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়িতে বসে থেকে এবং চালকরা দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আবার অনেক যাত্রী কয়েক ঘন্টাও ২-৪ কিলোমিটার এলাকা পাড়ি দিতে না পাড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর পূণরায় বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক মাহফুজ নান্টু জানান, ‘আমি জরুরী কাজে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার ভোর সাড়ে চারটায় কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে এশিয়া লাইনে বাসে উঠি। বাসটি শহর থেকে বের হয়ে মহাসড়কের আলেখারচর পৌঁছে যানজট পড়ে। আমি সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত বাসে বসে থেকে ১০ কিলোমিটার পথও অতিক্রম করতে না পারায় পরবর্তীতে নিমসার এলাকায় বাস থেকে নেমে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করি’।
হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (সার্জেন্ট) আসাদুজ্জামান জানান, মাধাইয়া বাজারের ক্রসিং গুলো পরিকল্পিতভাবে না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দুইটি ক্রসিং এর মধ্যে একটি পাকা হলেও অপরটি ভাঙ্গা-চুড়া। যারফলে যান চলাচলে আরও বেশি অসুবিধা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতি ক্রসিং ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সোহেল আহমেদ জানান, বর্তমানে মহাসড়কের আলেখারচর থেকে কোরপাই পর্যন্ত যানবাহন গতি কম থাকলেও যান চলাচল অনেকটা সচল রয়েছে। তবে কোরপাই থেকে ঢাকামুখী যানজট রয়েছে। আমরা মহাসড়কের সর্বত্র যানজট নিরলস নিরসন করে যান চলাচল সচল করলেও মাধাইয়া ও গৌরীপুর এলাকার ক্রসিং গুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছি। ওই ক্রসিং এলাকা সম্পর্কে আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত এর সংস্কার করা হলে যানজট কমে যাবে।