রাঙ্গাবালিতে স্লুইস গেট আটকে মাছ চাষ

রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের অধিকাংশ স্লুইস গেট প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। তারা এ সব স্লুইস গেট সংলগ্ন খালে তাদের সুবিধামতো পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। বেড়িবাঁধ কেটে কিংবা খালের যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে সেখানে তৈরি করেছে মাছের ঘের। মাছ চাষের জন্য খালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে লোনা পানি। এ অবস্থায় সেখানকার কৃষকরা চাষাবাদের সময় প্রয়োজনে পানি পাচ্ছে না, অসময়ে সময়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। মাছ চাষ করার কারণে ফসলি জমিতে ফসল উত্পাদন করতে না পারায় এলাকার কৃষকদের হচ্ছে সর্বনাশ।

রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন রাঙ্গাবালী, বড়বাইশদিয়া, ছোটবাইশদিয়া, চরমোন্তাজ ও চালিতাবুনিয়ায় ২০টি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। এ সব স্লুইস গেট রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য এলাকাবাসীদের সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা কোনদিন কাজে আসেনি। 
এদিকে, উপকূলীয় এলাকায় গলদা ও বাগদা চিংড়িসহ মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় ঐ সব স্লুুইস খালের দিকে নজর পড়ে এলাকার প্রভাবশালীদের। তারা স্লুইস খালগুলো দখল করে বাঁধ দিয়ে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করে। তাদের সুবিধা অনুযায়ী সেখানে পানি নিয়ন্ত্রণ করে এবং লবণ পানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করায়। এ অবস্থায় এলাকায় চাষাবাদের প্রয়োজনের সময় পানির অভাব দেখা দেয়। আবার কখনও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। উপরন্তু রয়েছে লোনা পানির প্রভাব। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এলাকায় গোটা কৃষিখাত। এলাকায় পরিবেশের ওপরও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। স্লুইস দখলকারী প্রভাবশালীরা যখন যে দল ক্ষমতায় তখন তাদের ছত্রছায়ায় থেকে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতেও সাহস পাচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিউদ্দিন বলেন, এলাকায় আমি জরুরি ভিত্তিতে খোঁজ নেয়ার ব্যবস্থা করছি। ব্যাপারটি সঠিক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।