১০ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পরিকল্পনার সঙ্গে এক মত নন ক্রিকেট লিজেন্ড শচিন টেন্ডুলকার। তার মতে বিশ্ব ক্রিকেটের নির্বাহী সংস্থার বরং তথাকথিত ছোট দলগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির উপর নজর দেয়া উচিত।
টেন্ডুলকার বলেন, ‘আপনি যখন খেলাটিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান, আমাদের উচিত অংশগ্রহণে আরো বেশি দলকে উত্সাহিত করা। অবশ্যই খেলার মান ফেলে দিয়ে নয়। তবে এ দলগুলোর খেলোয়াড়রা কিভাবে তাদের খেলার মান বাড়াতে পারে আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে এবং আমি মনে করি খেলার মান তখনই উন্নয়ন সম্ভব যখন তারা শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলা শুরু করবে।’
তার পরামর্শ, ‘সে জন্য আমি মনে করি শীর্ষ দলগুলো তাদের এ দল পাঠায়। ভারতীয় এ দল জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড কিংবা স্কটল্যান্ড সফরে পাঠাতে পারে এবং এ দলগুলোকে তাদের উত্সাহিত করা প্রয়োজন। যেমন ধরুন সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ অথবা নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল সেখানে যেতে পারে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে খেললে তাদেরকে উত্সাহিত করতে পারে।’
চলমান বিশ্বকাপের দূতের দায়িত্ব পালন করা টেন্ডুলকার বলেন, ‘মাল্টি ন্যাশনাল টুর্নামেন্টগুলোতে ভাল প্রস্তুতির জন্য সহযোগী দেশগুলোকে শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে আরো বেশি খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত।’
টেন্ডুলকার আরও বলেন, ‘আমি মনে করি তথাকথিত দুর্বল দলগুলোর বিরুদ্ধে শীর্ষ এবং শক্তিশালী দলগুলোর যতটা সম্ভব খেলা উচিত এবং সেটা কেবল বিশ্বকাপের সময়ই নয়। কেবলমাত্র চার বছর পর পর নয়, আমি মনে করি এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া উচিত। তারা যাতে শীর্ষ দলের বিপক্ষে আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় সেজন্য আইসিসির উত্সাহ যোগানো উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বিশ্বকাপের অনেক আসরেই এটা একটা ইতিহাস হয়ে আছে; এ দলগুলো সব সময়ই বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। এ আসরেই আয়ারল্যান্ড হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আমি মনে করি যোগ্যতা আছে এবং তাদের মেধা প্রদর্শনের জন্য এ সকল খেলোয়াড়দের কেবলমাত্র সুযোগ দরকার।’
চলমান টুর্নামেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টেও যত দিন গড়াচ্ছে ততই বিস্ময় ছড়াচ্ছে। ইতোমধ্যেই উত্তেজনাকর কিছু ম্যাচ বিশ্বাসী দেখেছে।’ তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে শীর্ষ দলগুলোর বাইরেও বেশ কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা কম খেলার সুযোগ পেলেও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের কথা বলেন।
টেন্ডুলকার বলেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের সাকিবই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একসঙ্গে তিন ফর্মেটেরই শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অথচ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আরো বেশি খেলতে পারলে তার প্রতিভার আরো বিকাশ ঘটত। তাই ক্রিকেটকে সত্যিকারভাবে বৈশ্বিক রূপ দিতে হলে তথাকথিত ছোট দলগুলোকে আরো বেশি সুযোগ দিতে হবে।’