প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাদেক হোসেন খোকা একটা গভীর ষড়যন্ত্র নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের দু’জনের ফোনে কথোপকথনের যে তথ্য ফাঁস হয়েছে তাতে এটা প্রমাণিত হয়েছে। এখন ভাবতে হবে এ ব্যাপারে কী করা যায়। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য মাহমুদুর রহমান মান্নার ফাঁস হওয়া কথাপোকথন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
মান্নার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট না করে শেখ হাসিনা শুধু এটুকু বলেন, ‘ক্যাবিনেটের আলোচনার সবই তো গণমাধ্যমে চলে যায়।’
সূত্র জানায়, মন্ত্রীরা বলেন, মান্না একেক সময় একেক দল করেছেন। কখনও জাসদ, কখনও বাসদ, এরপর আওয়ামী লীগ, এভাবে দফায় দফায় দল বদল করেছেন। তার নিজের রাজনৈতিক কোনো চরিত্র নেই।
আরেক মন্ত্রী বলেন, মান্নার বড় ভাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জামায়াতের তত্কালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ করতেন মান্নার এক সহদর। ঘটনাচক্রে হয়তো মান্না জাসদে যোগ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এক সময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মাহমুদুর রহমান মান্না এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হন।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হন। পরে আওয়ামী লীগের পদ হারিয়ে নাগরিক ঐক্য নামের সংগঠন গঠন করেন তিনি।
সম্প্রতি মান্না ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। যেখানে মান্না চলমান আন্দোলনকে আরো চাঙ্গা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লাশ’ চেয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এক প্রবাসীর সঙ্গে তার সম্প্রতি অপর এক ফোনালাপ ইতিমধ্যে ফাঁস হয়েছে। যেখানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়।