মান্না-খোকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩০ অভিযোগ

মান্নাকে গ্রেফতারে মাঠে গোয়েন্দারা

রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ‘সরকার হটাতে ঢাবিতে লাশ ফেলতে হবে’ এবং ‘জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে মান্না আগ্রহী’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে প্রতিটি থানায় দুটি করে জিডি করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতা, যানবাহনে পেট্রোল বোমা হামলা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়া, রাষ্ট্রকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে অস্থিরতা সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে সরকার হটাতে ঢাবিতে লাশ ফেলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত খোকার সঙ্গে অতি সম্প্রতি ঢাকা থেকে মান্না টেলিফোনে ২৭ মিনিট কথা বলেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে ১০ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড টেলিফোনে আলাপ করেন। টেলিফোনে সরকার উত্খাতে এক এগারোর মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে মান্না সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চান। এজন্য মান্না সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ দুই দিনে দীর্ঘ সময় টেলিফোন আলাপে ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে মান্না আলাপে বলেন, আপাতত পেট্রোল বোমা হামলা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে সরকার পেট্রোল বোমা নিয়ে অপপ্রচারও করতে পারছে না। সাদেক হোসেন খোকা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর সঙ্গে মান্নার টেলিফোনে ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ সংবাদ ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি। সুশীল সমাজের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম হোতা মান্না, এ তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে টেলিফোন আলাপ থেকে। এ কারণে পুলিশ প্রশা সন জনগণের জানমাল ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্পর্শকাতর  এ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে। অপরদিকে এই ফোনালাপে সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে উত্সাহিত করা হয় বলে শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, রমনা, মতিঝিল ও গুলশান জোনসহ ১৫টি থানায় মান্না ও খোকার বিরুদ্ধে ৩০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৩টায় মান্নার সুশীল সমাজের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মানববন্ধন করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কথা বলে ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে গুলশানের বাসায় মান্না গত শনিবার রাত থেকে যাননি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েছে। তবে মান্নার কোন সন্ধান তারা পায়নি। আজ মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন বলে একটি সূত্র জানায়।